“ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ ষড়যন্ত্র”:
৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর “ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ ষড়যন্ত্র”। কূটনৈতিক পথই হতে পারে উত্তরণের উপায়।
৫ই আগস্টের সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বাংলাদেশের ভেতরে-ভিতরে চাপা উত্তেজনা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ভারতের বিভিন্ন থিংক ট্যাংক ও মিডিয়ায় “ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ ষড়যন্ত্র” আবহ তৈরি হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে যুদ্ধের উত্তেজনা ও মানচিত্র পাল্টানোর কল্পনা যতই ভাইরাল হোক না কেন, বাস্তবতা হলো—এই উত্তেজনার পেছনে আছে গভীর ও সুদূরপ্রসারী আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।
বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জর্জ সোরোস ও মার্কিন ডিপ স্টেটের ভূমিকাই এই প্রেক্ষাপট বোঝার মূল চাবিকাঠি। ইউক্রেনে যেমন একটি নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে পুতুল সরকার বসানো হয়েছিল, বাংলাদেশেও ঠিক তেমন একটি রঙিন বিপ্লব ও মিলিশিয়া-নির্ভর অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে। এই পরিকল্পনার তৃতীয় ধাপেই আছে ভারতকে বাধ্য করা যাতে তারা বাংলাদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
ভারত যদি এই ফাঁদে পা দেয়, তবে বাংলাদেশে অবস্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রক্সি যুদ্ধ শুরু করতে পারে ভারতের বিরুদ্ধে। এটা কোনো স্বপ্নের কাহিনি নয়; বরং ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা থেকে জানা বাস্তবতা। সেখানে যেমন রুশ ভাষাভাষী নাগরিকদের উপর নির্যাতন চালিয়ে রাশিয়াকে আক্রমণে বাধ্য করা হয়েছিল, বাংলাদেশেও ঠিক তেমনই ‘হিন্দু’ ও ‘ভারতপন্থী’ পরিচয়ের মানুষদের উপর আঘাত চলছে—একটি যুদ্ধের অজুহাত তৈরির জন্য।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, ভারত যাকে এখন পর্যন্ত কৌশলগত মিত্র হিসেবে দেখে আসছে—সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার ছায়া প্রশাসন বাস্তবতায় ভারতের সামরিক ও শিল্প প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধ্বংস চায়। তাইই তাইওয়ানকে দিয়ে চীনকে, বাংলাদেশকে দিয়ে ভারতকে যুদ্ধে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এটি একধরনের “জেলেনস্কি মডেল”—যেখানে ছোট দেশকে যুদ্ধের মধ্যে ঢুকিয়ে তার চারপাশের বড় রাষ্ট্রকে লড়াইয়ে বাধ্য করা হয় এবং সেই রাষ্ট্র নিজের শক্তি দিয়েই নিজের ধ্বংস ডেকে আনে। ক্যান্সারের মতই, যেখানে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিজেকেই ধ্বংস করে।এই মুহূর্তে ভারত যদি সামরিক হস্তক্ষেপের পথ বেছে নেয়, তবে তা হবে আত্মঘাতী। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো যুদ্ধ চায় না। এই কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগানো দরকার।
কৌশলগত প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক সংযমই পারে এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্যকে ভণ্ডুল করতে। ভারতকে প্রয়োজন দ্বিপাক্ষিক সংলাপ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির মাধ্যমে সঠিক পথে এগোনো, যেন তারা ইতিহাসের ভুল পথে হাঁটছে না সেটা নিশ্চিত করা যায়।
সম্পাদকীয়ঃ-
