📌 সম্পাদকীয়:
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো আবারও রক্তাক্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বরগুনার তোফাজ্জল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাসুদ, জাহাঙ্গীরনগরের শামীম ও প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পারভেজ—এই চার তরুণের নৃশংস হত্যাকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এদের কেউ অপরাধী ছিল না; তারা ছিল স্বপ্নবাজ, প্রতিবাদী এবং আগামীর বাংলাদেশ গড়ার সম্ভাবনাময় মুখ।
এই তরুণদের জীবন থেমে গেছে শুধু সেই অপরাধে, যে অপরাধ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।
তাদের মৃত্যু প্রমাণ করে, আজকের ক্যাম্পাস শুধু বিদ্যা অর্জনের স্থান নয়, বরং ক্ষমতার নিষ্ঠুর খেলা ও দমন-পীড়নের নিষ্ঠুর ময়দান।
🧭 একটি শ্রেণির নিরবতা: নীরব বৈষম্য
যেসব মহল আবরার ফাহাদ, বিশ্বজিৎ, সাঈদের মতো হত্যাকাণ্ডে সরব হয়েছিলেন—তাদের একটি বড় অংশ তোফাজ্জল, মাসুদ, শামীম বা পারভেজের মৃত্যুর ঘটনায় একটা শব্দও বলেননি।
এই নীরবতা কেবল নৈতিক নয়, রাজনৈতিক পক্ষপাতের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
একটি শ্রেণি মনে করে, কার লাশ ‘উপযুক্ত’—আর কার মৃত্যুকে ‘স্বাভাবিক’ ধরে নেওয়া যায়।
এমন টার্গেটেড প্রতিবাদ বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও দখলদার রাজনীতিকে উৎসাহিত করে।
⚖️ বিচার নয়, পাল্টা হিসাব?
এই হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে রয়েছে সন্ত্রাস, গোষ্ঠীগত শত্রুতা এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার প্রবণতা।
এই চার ছাত্রের রক্তের বিনিময়ে যারা ক্ষমতা ধরে রেখেছে—তাদের বিচারের আওতায় আনাই হবে প্রকৃত প্রতিবাদের উত্তরাধিকার রক্ষা।
আমরা চাই:
- অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন
- সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হিসাবদিহি
- প্রতিটি ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
🕯️ এই লাশগুলোর কী হবে?
এই প্রশ্ন সকলের, যদি তোফাজ্জল, মাসুদ, শামীম বা পারভেজের পরিবার বিচার না পায়—তাহলে ভবিষ্যতের ছাত্ররা আর প্রতিবাদ করবে না।
এবং যারা প্রতিবাদ করবে, তারা নির্বিচারে খুন হয়ে যাবে, কারণ কোনো প্রতিবাদ তাদের পক্ষে দাঁড়াবে না।
আজ এই নীরবতা ভাঙতে হবে।
📢 অন্যায়ের সামনে নীরবতা মানে অপরাধের অংশীদারিত্ব
স্মরণ করি, বিচারহীনতা কখনো নিরপেক্ষ থাকে না।
আজ যাদের লাশ ‘আগ্রহের বাইরে’, আগামীকাল তাদের পাশে দাঁড়ানো আর সম্ভব হবে না, কারণ ততদিনে পুরো সমাজটাই হয়তো বিচারহীনতার কাছে আত্মসমর্পণ করে ফেলেছে।
