ড. ইউনুসের সাম্প্রতিক কাতার সফরে ৪০৪ সেনা সদস্য নিয়োগ বাতিল। এর আগে সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও জাতিসংঘের সাথেও নীতিগত ব্যর্থতা। বিদেশনীতিতে একের পর এক ধস নেমেছে।
প্রতিবেদন:
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতার সরকারের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের একটি কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১,১২৯ জন সেনা সদস্য কাতারে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। এটি ছিল দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
কিন্তু ইউনুস সরকারের অধীনে কূটনৈতিক দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পাল্টে যায়। গতকাল ড. ইউনুসের কাতার সফরের পর, কাতার সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—তারা আর ১,১২৯ জন নয়, বরং মাত্র ৭২৫ জন সেনা সদস্যকে নিয়োগ দেবে।
অর্থাৎ, এই একটি সফরের জেরেই ৪০৪ জন সেনা সদস্য স্থায়ীভাবে বিদেশে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ হারালেন।
এই ঘটনা নতুন কিছু নয়। ইউনুস সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বারবার প্রকাশ পেয়েছে।
- সুইজারল্যান্ডে তাঁর ৬৭টি বৈঠকের পরে সুইস সরকার বাংলাদেশের অর্থায়ন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়।
- ইলন মাস্কের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রও তার বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়।
- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করে।
- মধ্যপ্রাচ্যে সফরের পর গ্রেফতার হয় ২৪,০০০ বাংলাদেশি শ্রমিক।
- মালয়েশিয়া সফরের পরে ২০,০০০ শ্রমিককে ফেরত পাঠানো হয়।
- জাতিসংঘ মহাসচিবের সফরের পর রোহিঙ্গা প্রকল্পে জাতিসংঘ অর্থায়ন অর্ধেকে নামিয়ে আনে।
এই ঘটনাগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইউনুস সরকারের পররাষ্ট্রনীতি দুর্বল, দিশাহীন এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বার্থ রক্ষায় সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, “বিদেশনীতি কেবল কূটনৈতিক সফর নয়, এটি কৌশল, বিশ্বাসযোগ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্ন। আর সেই জায়গাতেই ইউনুস সরকার ভয়াবহভাবে ব্যর্থ।”
বাংলাদেশের জনগণের এখন প্রশ্ন—এই ব্যর্থতা আর কতদিন চলবে?
