বাংলাদেশ পুলিশের মধ্যে ঘুষ, মামলা বানিজ্য ও গরিবের ওপর জুলুম বহুদিনের। আজ তারা আরও বেপরোয়া, আরও হিংস্র। রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া পুলিশের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসবে না
বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় কাঠামো যেমন, তেমনি তার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের চরিত্র রাষ্ট্রের প্রতিফলন—যেখানে ঘুষ, দুর্নীতি, মামলা বানিজ্য এবং দলীয় আনুগত্য রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ পুলিশের কাছ থেকে ন্যায়বিচার আশা করা অলীক কল্পনা।
পুলিশ বাহিনীতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির সংস্কৃতি
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অভিযোগ একই রকম—ঘুষ না দিলে মামলা নেয় না, গরিব-দুঃখীদের হয়রানি করে, আর ক্ষমতাবানদের হয়ে জুলুম চালায়।
“একজন গরিব রিকশাচালকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা না পেলে রিকশা ছাড়ে না, অথচ প্রভাবশালীদের জন্য থানা যেন হোটেল,” — এক স্থানীয় ভুক্তভোগীর ভাষ্য।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও বেপরোয়া আচরণ
বর্তমানে পুলিশের এই দুর্নীতিগ্রস্ত আচরণ আরও ভয়ানক রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক নির্দেশনায় তারা রাজপথে শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর লাঠিচার্জ করে, নেতাকর্মীদের তুলে নিয়ে যায়, এবং ভুয়া মামলা দিয়ে হয়রানি করে। একে এক কথায় বলা যায়—রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে পুলিশ।
রাষ্ট্র না বদলালে পুলিশ বদলাবে না
পুলিশের এই বেপরোয়া ও হিংস্র রূপ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি দমনমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার বহিঃপ্রকাশ।
“রাষ্ট্র যদি হয় অন্যায় ও নিপীড়নের ধারক, তাহলে তার বাহিনীও হবে সেই নিপীড়নের রক্ষক।” — রাজনৈতিক বিশ্লেষক মতিন রহমান।
ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনার জন্য চাই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার
পুলিশকে যদি সত্যিকারের জনগণের বন্ধু বানাতে হয়, তাহলে শুধু বাহিনীর নয়, পুরো রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে। এর জন্য চাই জনগণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা, স্বচ্ছ বিচারব্যবস্থা এবং গণতন্ত্রের পূর্ণ প্রতিষ্ঠা।
