চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)-এর একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের তদন্ত চললেও তারা এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। জনমনে প্রশ্ন: তদন্ত প্রক্রিয়া কি শুধু কাগজে-কলমে?
চট্টগ্রাম, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ —
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)-এর একাধিক কর্মকর্তা দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের নজরে থাকলেও তারা এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন, যা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন তুলেছেন সুশীল সমাজ এবং নাগরিক সংগঠনগুলো।
বিশেষ সূত্র জানায়, এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জমি বরাদ্দে স্বজনপ্রীতি, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ঘুষ বাণিজ্য, এবং নির্মাণ প্রকল্পে বাজেট ফাঁকি ও অনিয়ম-এর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্র জানায়, চউক-এর অন্তত পাঁচজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য যাচাই, সম্পদের বিবরণ বিশ্লেষণ এবং ব্যাংক হিসাব তদন্ত ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধেই বিভাগীয় ব্যবস্থা বা সাময়িক বরখাস্ত করা হয়নি।
একজন দুদক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “তথ্য সংগ্রহ চলছে। যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।” তবে এই ধীর গতির তদন্ত নিয়ে উঠছে নানান প্রশ্ন।
জনমতের প্রতিক্রিয়া:
স্থানীয় নগর উন্নয়ন ফোরামের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হোসেন বলেন,
“দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তাধীন কর্মকর্তাদের পদে বহাল রাখলে তদন্ত কখনো নিরপেক্ষ হতে পারে না। এর ফলে দলিল গোপন, প্রভাব বিস্তার ও সাক্ষ্যচাপ দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের করের টাকায় চলা প্রতিষ্ঠান যদি এমন প্রভাবশালীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়, তবে ‘উন্নয়ন’ নামে আমরা ধ্বংস ডেকে আনছি।”
আলোচিত কিছু ঘটনা:
- এক প্রধান প্রকৌশলী ও তার আত্মীয়ের নামে একাধিক জমি বরাদ্দের অভিযোগ উঠেছে।
- একটি বৃহৎ আবাসিক প্রকল্পের প্ল্যান অনুমোদনে কোটি টাকার বিনিময় দাবির অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী।
- চউক-এর হিসাব শাখার একজন কর্মকর্তা বছরে তিনবার বিদেশ সফরের তথ্য পেয়েছে দুদক, যার কোনও সরকারি রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
চউক-এর অবস্থান:
চউক কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, “তদন্ত চলমান বিষয়ে আমরা পূর্ণ সহায়তা করছি। কাউকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত না করা পর্যন্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া কঠিন।”
জনগণ এখন জানতে চায়—চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবশেষে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না। শুধু তদন্ত নয়, দরকার দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা।
