৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠছে। কনস্টেবল মাসুদ রানার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে—এটা কি আত্মহত্যা, নাকি আরেকটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস?
ঢাকা, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ –
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া ঘটনাপ্রবাহ এক ভয়াবহ প্রশ্ন তুলছে—বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের টার্গেট করে কি চালানো হচ্ছে পরিকল্পিত গণহত্যা?
রাজশাহীর জেলা পুলিশ লাইনের ব্যারাকের টয়লেট থেকে কনস্টেবল মাসুদ রানার মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর এই প্রশ্ন আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
মাসুদ রানার মৃত্যু ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচারিত হলেও, কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি, নেই হতাশার প্রমাণ, নেই কোনো পারিবারিক বা আর্থিক টানাপোড়েনের রেকর্ড। বরং তদন্তে উঠে আসছে—তিনি হাসপাতালে ভর্তি থেকে ফিরে আসার পর থেকেই নজরে ছিলেন।
৫ আগস্টের পর থেকে রহস্যময় মৃত্যুর ধারা:
এই একটি ঘটনা নয়। ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু ঘটছে সন্দেহজনকভাবে:
- সিরাজগঞ্জ (এনায়েতপুর): ১৫ পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
- মিরপুর, ঢাকা: দুই পুলিশ সদস্যের মাথায় গুলি, “মিস ফায়ার” বলে চালিয়ে দেওয়া হয়।
- কুষ্টিয়া: ASI রায়হান আলীকে গুলি করে হত্যা, বলা হচ্ছে ডাকাতের গুলি—কিন্তু সেদিন কোনো অভিযানই ছিল না।
- বরিশাল: কনস্টেবল শরীফুল ডিউটি শেষে ফিরতে গিয়ে ট্রাকচাপায় নিহত হন—প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন এটি অ্যাম্বুশ ছিল।
রাষ্ট্রীয় স্তরের হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ:
বিশ্লেষকরা বলছেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং একটি রাষ্ট্রীয় স্তরের হত্যাযজ্ঞের অংশ। উদ্দেশ্য:
- পুলিশের মনোবল ভেঙে ফেলা
- অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ রোধ
- ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীকে কার্যকর স্বাধীনতা দেওয়া
- অবৈধ শাসনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি:
১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান কুখ্যাত ক্যাংগারু কোর্ট বসিয়ে শতাধিক বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাকে গোপনে ফাঁসি দেয়। আজকের ইউনুস বাহিনীও একই কৌশল নিচ্ছে—তবে এবার আত্মহত্যা বলে চালানো হচ্ছে পরিকল্পিত খুন।
আজকের “ক্যাংগারু কোর্ট” বসছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনের বৈঠকখানা অথবা কোনো নির্জন ব্যারাকে, যেখানে তদন্তের আগেই ক্লোজড ফাইল করে দেওয়া হয়।
পুলিশ বাহিনীকে গিনিপিগ বানানোর অভিযোগ:
৮ মাসে ৪৪ জন পুলিশ সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। প্রায় সবগুলোতেই আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা বা ডাকাত আক্রমণের গল্প সাজানো হয়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো—তারা ছিলেন সরকারের প্রতি সমালোচনামূলক, সরাসরি প্রতিবাদ করেছেন, বা কিছু ‘সংবেদনশীল’ তথ্য জানতেন।
তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, নেই কোন ডিসিপ্লিনারি একশন—তবুও একে একে মারা যাচ্ছেন।
এই মৃত্যুগুলো কি নিছক ‘দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা’? নাকি রাষ্ট্রযন্ত্রকে পুনর্গঠনের নামে একটি নতুন রূপে শুরু হওয়া সাংগঠনিক গণহত্যা?
জাতির কাছে প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে—পুলিশ এখন নিরাপদ নয়, তাহলে সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?
