বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও ইউনুস সরকারের নীরবতা কি এই উত্থানের পেছনে দায়ী? পড়ুন বিস্তারিত।
ঢাকা, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ –
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উগ্রপন্থী তৎপরতা বৃদ্ধি, ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্য এবং গোপন ঘাঁটি তৈরি—সব কিছু মিলিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রাষ্ট্রীয় স্তরে গোপন পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এসব ঘটনা সম্ভব নয়।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই আঙুল তুলছেন বর্তমান ইউনুস সরকারের দিকে—তাদের নীরবতা, নীতিগত অস্পষ্টতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে অস্বাভাবিক অস্থিরতার দিকে।
জঙ্গি হামলা ও নিরাপত্তা দুর্বলতা:
২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে গোপন অস্ত্র মজুত, ধর্মীয় কনভেনশনে উগ্র বক্তব্য, এবং নতুন সদস্য সংগ্রহ-এর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কক্সবাজার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামায়াত সংশ্লিষ্ট গ্রুপ ও কথিত “ইসলামি ছাত্র সংঘ” নতুন করে সক্রিয় হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, “এত বড় আকারে জঙ্গি সংগঠনের পুনর্গঠন রাষ্ট্রীয় অনুমতি ছাড়া সম্ভব নয়।”
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা—নাকি অক্ষমতা?
ইউনুস সরকার একদিকে “সহনশীলতা ও গণতন্ত্রের” কথা বলছে, অন্যদিকে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের সাথে আপসমূলক আচরণ করছে।
গত ৮ মাসে কোনো বড় জঙ্গি নেতার গ্রেপ্তার হয়নি, বরং জামিনে বেরিয়ে পুনঃসংগঠিত হচ্ছে অনেকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা হয় সরকারের সরাসরি মদদ, নয়তো সাংগঠনিক অদক্ষতার ফল—উভয় ক্ষেত্রেই দায় সরকারের।
পুলিশ বাহিনী কেন নিস্ক্রিয়?
আগস্টের পর থেকে পুলিশ বাহিনীর উপর একের পর এক হামলা, আত্মহত্যার নামে হত্যাকাণ্ড এবং ব্যারাকভিত্তিক দমননীতি—সবই ইঙ্গিত করে যে, বাহিনীর মনোবল ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
এই সুযোগেই জঙ্গি সংগঠনগুলো মাঠে ফিরে এসেছে, বলছে বিশেষজ্ঞ মহল।
বিদেশি সংযোগ:
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, কয়েকটি বিদেশি এনজিও ও দূতাবাস নিয়মিত অর্থায়নের মাধ্যমে একাধিক ধর্মীয় এনজেন্ডাকে সহায়তা করছে।
ইউনুস সরকারের আন্তর্জাতিক ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ ভাবমূর্তি এসব বিষয়কে আড়াল করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
জনগণের প্রশ্ন:
- কেন ধর্মীয় উগ্রবাদীরা আজ এতটা সাহস পাচ্ছে?
- কেন ইউনুস সরকার কোনো কঠোর অ্যাকশন নিচ্ছে না?
- পুলিশের উপর হামলা বাড়লেও অপরাধীরা ধরা পড়ছে না কেন?
জঙ্গিবাদ শুধু একটি আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের জন্য হুমকি। ইউনুস সরকারের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া, অথবা গোপনে সহায়তা—উভয়ই বাংলাদেশকে এক বিপজ্জনক মোড়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
