ঢাকা, এপ্রিল ২০২৫ – ফিলিস্তিনের পক্ষে আয়োজিত ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঢাকায় আইএস (Islamic State) অনুপ্রাণিত উগ্রপন্থীরা প্রকাশ্যে খেলাফত প্রতিষ্ঠার প্রচারে নেমেছে। তারা ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানের আড়ালে জনসাধারণের মধ্যে উগ্রবাদী চিন্তা ছড়িয়ে দিতে এবং তরুণদের নিয়োগ দিতে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছে।
জিহাদি পতাকা ও প্রতীকের বহুল প্রদর্শন
ছবিতে দেখা গেছে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কিছু গোষ্ঠী ‘ইসলামিক জিহাদ’ লেখা পতাকা ও ব্যাজ প্রদর্শন করছে। একদিকে, এসব প্রতীক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জঙ্গিগোষ্ঠীর পরিচায়ক; অন্যদিকে, সেগুলোর বহুল ব্যবহারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো বাধা দিচ্ছে না।
ফলে, সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন যে রাজধানীর রাস্তায় এমন কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
সরকারের নীরবতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণ
তবে, অবাক করা বিষয় হলো, যেখানে উগ্রবাদীদের এমন প্রকাশ্য কার্যকলাপে সরকার নিশ্চুপ, সেইসাথে একজন হিন্দু অধিকারকর্মীকে “গেরুয়া পতাকা” বহনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, সরকার দ্বৈত নীতি অনুসরণ করছে, যা আরও সংকট তৈরি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও নিরাপত্তা হুমকি
পাশাপাশি, নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকার এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।
বিশেষ করে, আইএস সমর্থিত প্রচারণা যদি লাগামছাড়া হয়ে পড়ে, তাহলে তা বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি-সহানুভূতিশীল অঞ্চল হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।
উপসংহার: দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি
সব মিলিয়ে, ঢাকায় ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভের আড়ালে উগ্রবাদীদের যে তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা এখনই দমন না করলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সরকারের উচিত অবিলম্বে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে করে একদিকে উগ্রপন্থা দমন হয়, এবং অন্যদিকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকারও সুরক্ষিত থাকে।
