ঢাকা, এপ্রিল ২০২৫ – ইউক্রেনের বাস্তবতা এখন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে—একজন অনভিজ্ঞ কৌতুক অভিনেতাকে রাষ্ট্রপতি বানানো ছিল কত বড় ভুল।
ভলোদিমির জেলেনেস্কির নেতৃত্বে, ইউক্রেন পশ্চিমাদের স্বার্থে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, দেশটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত, অর্থনীতি চরম সংকটে, লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু এবং সমাজে চরম বিভাজন।
বাংলাদেশের সামনে কি অপেক্ষা করছে একই ধরনের বিপর্যয়?
অন্যদিকে, বাংলাদেশেও দেখা যাচ্ছে এক ভয়ংকর ছায়া—একজন অর্থনৈতিক খ্যাতি অর্জনকারী কিন্তু বিতর্কিত চরিত্র ড. মুহাম্মদ ইউনুসের মাধ্যমে।
তাঁর নেতৃত্বে, একটি তথাকথিত “নিরপেক্ষ সরকার” আনার নামে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
তদ্ব্যতীত, গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে দরিদ্রদের উপর শোষণ, অতিরিক্ত সুদ আদায় এবং একের পর এক আর্থিক অনিয়ম প্রমাণ করে যে, তাঁর কর্মকাণ্ডের পেছনে বিদেশি স্বার্থ জড়িত রয়েছে।
ড. ইউনুসের ছায়া রাজনীতির আসল চেহারা
বিশ্লেষকরা বলছেন, ড. ইউনুস শুধু একজন নোবেলজয়ীই নন—তিনি এখন একটি গোপন রাজনৈতিক প্রকল্পের চালক।
ফলে, প্রশ্ন উঠছে—ড. ইউনুস কি বাংলাদেশের জেলেনেস্কি হতে চলেছেন?
বিদেশি লবি, এনজিও সংস্থা, এবং তথাকথিত ‘তৃতীয় শক্তি’র আড়ালে একটি বৈশ্বিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব এবং উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ভেঙে ফেলতে পারে।
মিয়ানমার পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক বিপদ
এদিকে, আমাদের প্রতিবেশী মিয়ানমারে চলছে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ। সেনাবাহিনী, বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও বিদেশি প্রভাবিত শক্তির মধ্যে সংঘাত চলছে তীব্রভাবে।
বাংলাদেশেও, ড. ইউনুসের মতো ব্যক্তি ও তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে তেমনি এক “ছদ্ম যুদ্ধ” শুরু হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নয়—একটি নিরাপত্তাজনিত হুমকি।
একতরফা আমেরিকান মিত্রতা: কূটনীতিকভাবে কতটা বিপজ্জনক?
বর্তমানে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দূরত্ব, চীনের প্রতি সন্দেহ, এবং রাশিয়ার সঙ্গে শীতল সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, ইউনুসপন্থী গোষ্ঠী একতরফাভাবে আমেরিকান এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয়, যা আঞ্চলিকভাবে বাংলাদেশকে আরও নিঃসঙ্গ ও দুর্বল করে তুলতে পারে।
উপসংহার: জাতির ভবিষ্যৎ যেন না হয় ইউক্রেনের পুনরাবৃত্তি
সবশেষে, জেলেনেস্কির মতো একজন নেতৃত্বহীন “আন্তর্জাতিক চরিত্রের” ছত্রছায়ায় ইউক্রেন ধ্বংস হয়েছে।
বাংলাদেশ যেন সেই ভুল না করে, সেজন্য এখনই জনসচেতনতা, রাজনৈতিক ঐক্য এবং ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে রুখে দেওয়া সময়ের দাবি।
বাংলাদেশের মানুষকে বুঝতে হবে—ভুল নেতৃত্বের কুফল গোটা জাতিকে বিপর্যয়ে ফেলতে পারে।
