বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন কি আসলে সংস্কারের ঠিকাদার হয়ে উঠেছে? তারা ক্ষমতায় না থেকেও কিভাবে ক্ষমতার কলকাঠি নাড়িয়ে চলছে, আর “নতুন বন্দোবস্ত”-এর নামে কোটি কোটি টাকার বানিজ্য করছেন? চলুন, আজকের প্রতিবেদনে তা জানি।
নতুন বন্দোবস্তের বিলাসী জীবন
মার্কেটে রটেছে, কোটি টাকার নিচে বৈষম্য বিরোধী তারকা নেতারা কোনো কথাই বলেন না। দামি গাড়ি, বিলাসী জীবনযাপন যেনো তাদের নতুন পরিচয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি, জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান নিজেই স্বীকার করেছেন, এক ব্যবসায়ী জামায়াত নেতা তাকে খুশি হয়ে একটি দামি গাড়ি উপহার দিয়েছেন। এটি কেবল তাদের বিলাসী জীবনই নয়, বরং নতুন বন্দোবস্তের এক প্রমাণ।
সাধারণ মানুষের বিস্ময়
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সারজিস হাসনাত ঈদ উপলক্ষে তার গ্রামের বাড়ি যাওয়ার সময় গাড়ির বহর নিয়ে পৌঁছান। এই ঘটনা দেখে দেশের সাধারণ মানুষ বিস্মিত। কারণ, এক বছর আগেও যিনি ট্রেনে ঝুলে বাড়ি ফিরতেন, তিনিই এখন আলাদ্দিনের চেরাগ হাতে পেয়েছেন!
মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং গোপনীয়তার চেষ্টা
প্রথম আলোতে সারজিস হাসনাতের বিলাসী জীবন এবং কমিশন বানিজ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর, সেটি মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে চাপের মুখে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে হাসনাত তার ফেসবুক পেজে প্রথম আলোকে ‘রয়ের এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ করেন। এটি এক ধরনের নতুন মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ।
দুর্নীতির বিস্তার এবং তদবির বানিজ্য
শেখ হাসিনার পিয়নের ৪০০ কোটি টাকার আয় নিয়ে সমালোচনা হলেও, নতুন বন্দোবস্ত-এর সময়ে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন মাত্র সাত মাসেই শত কোটি টাকা কামিয়েছেন। তিনি নিজেও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ছিলেন।
এছাড়া, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা তুহিন ফারাবিও অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছেন, যিনি তদবির বানিজ্য করে শত কোটি টাকা কামিয়েছেন। তদবির বানিজ্য নিয়ে এখন পুরো দেশ জুড়ে আলোচনা চলছে।
ঠিকাদারি এবং ব্লাকমেইল বানিজ্য
একইভাবে, সরকার পালানোর ঠিকাদারদের কাজ এখন নতুন ঠিকাদারদের হাতে চলে গেছে। দপ্তর পরিবর্তন, টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার সুপারিশ, ফ্যাসিবাদের দোষ দিয়ে ব্লাকমেইল বানিজ্য—সবকিছুতেই সম্পৃক্ত বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতারা।
এমনকি আসিফ মাহমুদের শিক্ষক বাবাও ঠিকাদারি লাইসেন্স নিয়ে বিতর্কে জড়ান। পরবর্তীতে জনগণের চাপের মুখে তিনি সেই লাইসেন্স বাতিল করেন এবং জনসমক্ষে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন।
রেলেও দুর্নীতির ছোঁয়া
রেলের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জানিয়েছেন যে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত তিন ছাত্র প্রতিনিধি, রেজাউল ইসলাম, আশিকুল রহমান, এবং মেহেদি হাসান বাপ্পি, রেলের ফ্রি পাস ব্যবহারের মাধ্যমে কালোবাজারিতে টিকিট বিক্রি করেছেন। তারা মুলত রেলের ভ্রমণ সুবিধাকে দূর্ণীতির মাধ্যমে কাজে লাগিয়েছেন।
সংবাদ মাধ্যমে নীরবতা
এতে স্পষ্ট যে, সংবাদমাধ্যমে এসব বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর ফলে, মিডিয়া এসব নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু লিখলেই তা বন্ধ করা হয় এবং লেখকদের নানাভাবে শাস্তি দেয়া হয়।
