পটুয়াখালীর দুমকিতে দলবেঁধে ধর্ষণের শিকার হওয়া এক কিশোরী শনিবার রাতে ঢাকায় আত্মহত্যা করেছে, জানায় পুলিশ।
কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা
ঢাকার আদাবর থানার ওসি এস এম জাকারিয়া জানিয়েছেন, শনিবার রাতে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে পুলিশের কাছে খবর আসে, মেয়েটি বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এতে তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি এখন তদন্তাধীন।
ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর মানসিক অবস্থা
কিশোরীটির পরিবার ও আত্মীয়রা জানান, ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এছাড়া, তার মধ্যে বিচার হবে কিনা এমন শঙ্কাও ছিল। তবে, ধর্ষণের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়া এই কিশোরীর জন্য বিচার প্রাপ্তির আশায় উদ্বেগ ছিল তার মনে। এই পরিস্থিতিতে, সে গভীর মানসিক বিপর্যয়ে পড়েছিল।
ধর্ষণের ঘটনা ও মামলার বিস্তারিত
গত মার্চে, পটুয়াখালীর দুমকিতে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় কিশোরীর বাবা মারা যান। তারপর, কিশোরীটি তার বাবার কবর জিয়ারত করতে যাওয়ার সময় ধর্ষণের শিকার হয়।
এছাড়া, ধর্ষণের ঘটনার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর হুমকিও দেয়া হয়।
মামলার বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, এই ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি শাকিব মুন্সি (১৯) এবং আরেকজন অপরাধী (১৭) কে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়, এবং অপর আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল পরদিন।
আত্মহত্যা ও পরবর্তী ঘটনাবলী
ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে আন্দোলন চলছিল, তবে মেয়েটি ঢাকায় আদাবর থানার শেখেরটেক এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকছিল। সেখানে, শনিবার রাতে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
এই ঘটনায় রাতেই সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালসহ, শহীদ পরিবারটির আত্মীয়স্বজনরা হাসপাতালে জড়ো হন।
পরিবার ও আত্মীয়দের বক্তব্য
মেয়েটির চাচাতো ভাই বলেছেন, “ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, এবং বিচার হবে কিনা তা নিয়ে তার মনের মধ্যে শঙ্কা ছিল।”
এদিকে, আন্দোলনের নেতারা ধর্ষণের বিচার দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে।
