নাইক্ষ্যংছড়ি। একটি সীমান্তবর্তী এলাকা হলেও এখন যেন রীতিমতো যুদ্ধের ময়দান। আরসা নামে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী বাহিনী দিনদুপুরে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে আমাদের মাটিতে। সড়কে, পাহাড়ে, মানুষের বসতবাড়ির কাছাকাছি সেখানে তারা বন্দুক হাতে মহড়া দিচ্ছে। এই দৃশ্য শুধু বিভীষিকার নয়, এটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি এক ভয়ঙ্কর প্রশ্নচিহ্ন।
দেশের ভেতরে অন্য দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠী অস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর আমাদের সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চুপচাপ! না জানার কথা নয়, তারা জানে। আসল সত্য হচ্ছে, রাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়া এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। রাষ্ট্র যদি চায়, এক ঘণ্টার মধ্যেই এই সন্ত্রাসীদের মাটি থেকে উৎখাত করা সম্ভব। কিন্তু রাষ্ট্র তা করছে না। কেন?
এর মানে একটাই রাষ্ট্রই হয়তো তাদের সাহায্য করছে। সীমান্তে এই ধরনের তৎপরতা মানে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। এইসব গোষ্ঠীর সাথে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। কিন্তু তার আগে দরকার জনগণকে সত্য বলা।
অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, দেশের মূলধারার মিডিয়া এই ইস্যুতে একেবারেই নিশ্চুপ। এক বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী আমাদের ভুখণ্ডে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ একটি লাইভ রিপোর্টও আসছে না! এটা কি সাংবাদিকতার ব্যর্থতা, না ভয় বা চুক্তিভিত্তিক নীরবতা?
আমরা যদি এখনো জেগে না উঠি, তবে কালকে এই বাহিনী শুধু সীমান্তে থাকবে না, ঢুকে পড়বে শহরে, ঘরে। এখনই সময় প্রশ্ন তোলার, আওয়াজ তোলার। এই দেশ আমাদের, এই মাটি আমাদের, এই নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। যদি রাষ্ট্র নিজেই এদের পৃষ্ঠপোষক হয়, তবে জনগণকে প্রস্তুত হতে হবে তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের জন্য।
