২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে একটি অদৃশ্য শক্তির আবির্ভাব ঘটেছে, যাকে সাধারণ মানুষ ‘ছায়া সরকার‘ নামে আখ্যায়িত করছে। রাষ্ট্রীয় কাঠামো এখন কাগজে-কলমে বিদ্যমান হলেও বাস্তবিক অর্থে দেশ চালাচ্ছে একটি বহুমুখী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় উগ্রবাদী দল, বিদেশি এজেন্ট, এনজিওপন্থী অর্থনৈতিক কারসাজিকারী এবং তথাকথিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
জনপ্রতিনিধিদের নয়, ক্ষমতা এখন পরামর্শক ও এনজিও গোষ্ঠীর হাতে
বর্তমান বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের হাতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। ক্ষমতা এখন কিছু “পরামর্শক”, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার স্বার্থে নিয়োজিত সুশীল প্রতিনিধি এবং টেকনোক্র্যাটিক একটি গোষ্ঠীর হাতে, যাদের অনেকেই বিশ্বব্যাংকপন্থী। তাদের মূল লক্ষ্য—বাংলাদেশকে একটি ‘সুপারভাইজড এনজিও-রাষ্ট্রে’ রূপান্তরিত করা।
পরিকল্পিতভাবে নিরাপত্তা সংকট ও ধর্মীয় উগ্রবাদকে ব্যবহার
এই ছায়া সরকারের অন্যতম কৌশল হলো একটি কৃত্রিম ‘নিরাপত্তা সংকট’ তৈরি করা। সেই লক্ষ্যে ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর পুনরুত্থান ঘটানো হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের কট্টর অংশ এবং মামুনুল হকের অনুসারীরা আবারও সক্রিয়, তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা বন্ধ বা ধীরগতির করা হয়েছে। এসব মাদ্রাসাকে ‘ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্র’ হিসেবে বৈধতা দেওয়া হলেও বাস্তবে সেগুলো জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
জামায়াত, শিবির ও হিজবুত তাহেরীর উত্থান
‘হিজবুত তাহেরী’ নামের সংগঠনটি পুনরায় সংগঠিত হয়ে মাঠ পর্যায়ে শারীরিক প্রশিক্ষণ ও জনসংযোগ কার্যক্রম চালাচ্ছে। ইসলামী ছাত্র শিবির দীর্ঘদিন পর আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত হচ্ছে। একইসঙ্গে জামায়াত ইসলামীও কৌশলগতভাবে পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে।
প্রগতিশীল শক্তির দমন ও মিডিয়ার নীরবতা
এই ছায়া সরকার মুক্তিযুদ্ধপন্থী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করছে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের কার্যক্রমকে নানা প্রশাসনিক জটিলতায় সীমিত রাখা হয়েছে। মিডিয়াও এই বিষয়গুলো নিয়ে নিরব, কারণ তাদের মুখ খুললেই তারা ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
বাংলাদেশে ছায়া সরকারের উত্থান এখন আর কোনো অনুমান নয়, এটি বাস্তবতা। এই গোষ্ঠী কখনো নির্বাচনে অংশ নেয়নি, নেবে না। তারা ভয়ের সংস্কৃতি, জঙ্গিবাদ এবং বিদেশি দাতা নির্ভরতায় রাষ্ট্র চালাচ্ছে। আগামী দিনের বাংলাদেশ যদি এখনই জেগে না ওঠে, তাহলে তা হবে এক দুর্বল, ভয়ভীতিপূর্ণ আফগানিস্তানের অনুরূপ সংস্করণ।
