G. Islam
বাংলাদেশে ৫ আগস্টের বিতর্কিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গণমাধ্যমে চলছে এক গভীর ও পরিকল্পিত দখলদারির খেলা। একের পর এক জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশন চ্যানেলের শীর্ষপদে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। IJNet-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র কয়েক মাসে ২৯টি গণমাধ্যমে শীর্ষ পদে রদবদল হয়েছে।
এই রদবদল সাধারণ কোনো প্রশাসনিক বা কর্মপরিবর্তন নয়। এটি একটি রাজনৈতিক পুনর্গঠনের অংশ, যেখানে তথাকথিত “নিরপেক্ষ” কিংবা বিএনপি-জামায়াতঘনিষ্ঠ সাংবাদিকদের স্থাপন করে সাংবাদিকতা ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার মেশিনে রূপান্তর করা হচ্ছে।
স্বাধীনতা নয়, চলছে আদর্শগত প্রতিস্থাপন
এটি শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন নয়, গণমাধ্যমের আদর্শগত দিকও পাল্টে দেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সম্পাদক ও শীর্ষকর্তাদের অনেকেই পূর্বে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের জন্য পরিচিত ছিলেন। আজ তারা প্রকাশ করছেন একতরফা রিপোর্ট, মনগড়া তথ্য, এবং মিথ্যাচার। এতে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হারিয়ে যাচ্ছে প্রচারযন্ত্রের নিচে।
সাংবাদিকতার স্বাধীনতা হুমকিতে
গণমাধ্যমকে নিরপেক্ষতার বদলে রূপ দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে। আগের সরকারের প্রতিক্রিয়ায় নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে একটি নতুন মতাদর্শগত কাঠামো চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া আজ আর জনগণের নয়, বরং নতুন ক্ষমতাসীনদের মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে।
সাংবাদিকদের সতর্ক হওয়ার সময় এখন
এই দখলদারি রাজনীতি যদি চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সত্য জানানোর অধিকার হারিয়ে ফেলবে পুরো জাতি। ৫ আগস্ট কেবল রাজনৈতিক মোড় পরিবর্তন করেনি, এটি গণমাধ্যম স্বাধীনতার মৃত্যুবার্ষিকী হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
✅ উপসংহার:
এখনই সময় প্রতিবাদের। গণমাধ্যম দখলের খেলা বন্ধ করতে হবে এবং সত্য, সৎ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে সোচ্চার হতে হবে। নইলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।
