জাতিসংঘের নামে প্রবেশ করছে আমেরিকান নীলনকশা! আমরা কি আমাদেরই জমিতে আশ্রিত হতে চলেছি?
✍️ জি. ইসলাম;
বাংলাদেশ আজ একটি চরম সংকটের মুখোমুখি—যেখানে জাতিসংঘের মানবিক করিডোর নামক পরিকল্পনার আড়ালে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভয়ংকর এক নীলনকশা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তাঁরা সবাই জানাচ্ছেন, আরাকান আর্মি এখন মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চেয়েও ভয়ংকর। প্রশ্ন হচ্ছে—বাংলাদেশ কি এবার এই বাস্তুচ্যুতদের স্থায়ী আশ্রয়দাতা হয়ে উঠছে?
সরকার মাত্র কিছুদিন আগেই জাতিসংঘ মহাসচিবকে সামনে রেখে বলেছিল দেড় লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র তার বিপরীত—রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই, বরং রাখাইনে জাতিসংঘের নামে করিডোর খোলা হচ্ছে, যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ আরও বৈধতা পাচ্ছে।
বাস্তবতা হচ্ছে, জাতিসংঘ হচ্ছে মুখোশ, আর মূল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিহাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যেখানেই মানবিক সহায়তার নাম নিয়েছে—সেই দেশগুলো হয়েছে ধ্বংসস্তূপ। ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইউক্রেন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ‘সহায়তা’র আড়ালে হয়েছে শোষণ, অস্ত্রব্যবহার, এবং অর্থনৈতিক দখল।
আজ বাংলাদেশে সেই একই ছক বসানো হচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে যদি পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ‘মানবিক করিডোর’ বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার সরাসরি লঙ্ঘন হবে।
এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণ, সংসদ বা নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। তাহলে প্রশ্ন ওঠে—সরকার কি দেশের জনগণের প্রতিনিধি, না কি কোনো বিদেশি শক্তির প্রতিনিধি?
ভারত, থাইল্যান্ড কিংবা সাগরপথ থাকা সত্ত্বেও কেন শুধু বাংলাদেশকেই এই দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা হচ্ছে?
আমরা স্পষ্টভাবে বলছি—বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জমিও করিডোর হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যাবে না। এটা হবে জাতীয় স্বার্থবিরোধী, এবং দেশের প্রতিটি মানুষ এ ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।
এটি শুধু রাজনৈতিক অবস্থান নয়, এটি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
