রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা ও বিএনপি-ঘনিষ্ঠ যুবদল নেতা নাফিজ মোহাম্মদ আলম সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে পুলিশ হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার সময় তিনি নিজেই পুলিশের দিকে গুলি ছুঁড়েছেন।
📌 প্রকাশ্যে স্বীকারোক্তি, তবু প্রশাসনের নিশ্চুপ ভূমিকা
নাফিজ মোহাম্মদ আলম ১ মে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া পোস্টে জানান, উত্তরা থানায় হামলার সময় নবাব হাবিবুল্লাহ কলেজের ছাদ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পুলিশের ওপর আঘাত করেন। তিনি জানান, তার দেওয়া কাভার ফায়ারের সুযোগে জনতা থানায় প্রবেশ করে।
পোস্টের সাথে একটি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিজের ছবিও যুক্ত করেন তিনি। সেখানে ক্যাপশনে বলেন, “অস্ত্র সাইডে রেখে ভিক্টরি চিহ্ন দেখাতে বলেছিল ছোট ভাই।”
🔍 পুরনো অপরাধের ফিরিস্তি
তদন্তে জানা যায়, নাফিজ দীর্ঘদিন ধরে নারী ব্ল্যাকমেইল, মদের ব্যবসা, এবং অস্ত্র চোরাচালানে জড়িত। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর খিলক্ষেত থানার লেকসিটির বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থেকে বিদেশি পিস্তল, ওয়াকিটকি, বিপুল মদ ও তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হন। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি ছাড়া পান।
❌ ভুয়া পরিচয় ও প্রচারণা
নাফিজকে ছাত্রলীগ নেতা বলে প্রচার করেছিল কিছু পত্রিকা, কিন্তু রিউমার স্ক্যানার প্রকাশ করে যে তিনি আসলে যুবদলের নেতা ও বিএনপির সক্রিয় কর্মী। ২০১৮ সালেও তাকে বিএনপির প্রচারে দেখা গেছে।
💬 জনমনে প্রশ্ন: কেন নীরব প্রশাসন?
স্বীকারোক্তিমূলক ফেসবুক পোস্ট, প্রকাশ্য অস্ত্র প্রদর্শন এবং একাধিক অপরাধের পরেও প্রশাসনের কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শহিদ পুলিশ সদস্যদের পরিবার বলছে—এমন আত্মস্বীকৃত খুনিকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা উচিত।
❗ ক্ষমতার বলয়েই কি দায়মুক্তি?
নাফিজের সাথে প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের সম্পর্ক ও তার বারবার মুক্তি পাওয়া বিষয়টি সমাজে বার্তা দিচ্ছে—ক্ষমতার জোরেই কি আইনের বাইরে থাকা যায়?
