৮ মাসে বন্ধ ১১৩ কারখানা, বেকার ৯৬ হাজার শ্রমিক: শিল্পখাতে বিপর্যয়ের আভাস
ঢাকা, ৬ মে ২০২৫ — দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বিকেএমইএ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মাসে ১১৩টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ৯৬,০০০ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন, যার প্রভাব পড়েছে জাতীয় উৎপাদন, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং সামাজিক স্থিতিশীলতায়।
শিল্পখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার অনিশ্চয়তা, পশ্চিমা বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়া এবং এলসি খোলার জটিলতা এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ। অনেক উদ্যোক্তা উৎপাদন অব্যাহত রাখতে গিয়ে আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বিশেষ করে স্পিনিং, ডাইং ও নিটিং ইউনিটগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, “এত অল্প সময়ের মধ্যে এতগুলো কারখানা বন্ধ হওয়ার নজির গত এক দশকে দেখা যায়নি। অব্যাহত গ্যাস সংকটে স্পিনিং ও ডাইং কারখানাগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো এলসি খুলছে না, ফলে কাঁচামাল আমদানি করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
অন্যদিকে, ডলার সংকটের কারণে উদ্যোক্তারা বিদেশি অর্ডার নিতেও দ্বিধায় ভুগছেন। বর্তমান বাজারে একদিকে যেমন চাহিদা কমেছে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। এতে কারখানাগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতারা জানিয়েছেন, “হঠাৎ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ছাড়াই রাস্তায় এসে দাঁড়াচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা বাড়ছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত, এলসি প্রক্রিয়া সহজ ও উৎপাদন খাতে প্রণোদনা দিতে হবে। তা না হলে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত অচিরেই স্থবির হয়ে পড়বে।
