জি. ইসলাম
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণমাধ্যমের একটি অংশ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেখা গেছে, একাংশ চাটুকার মিডিয়া ও সাংবাদিক হঠাৎ করেই ইউনুস সরকারের মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে। এই পরিবর্তন শুধু রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতাই নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রচারণা যন্ত্র হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
মূলধারার বহু গণমাধ্যম একসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অর্জন প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা রাখলেও, পট পরিবর্তনের পর তারা আচমকাই ভিন্ন সুরে কথা বলতে শুরু করে। এই অবস্থান পরিবর্তনকে জনগণ ভালোভাবে নেয়নি। ফলস্বরূপ, মানুষ এখন মূলধারার মিডিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এবং নির্ভীক ইউটিউবার, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট এবং স্বাধীন মতপ্রকাশকারীদের দিকে ঝুঁকছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তথাকথিত দালাল সাংবাদিকরা শুধু রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট রিপোর্ট করে না, বরং তারা জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আন্দোলনকে সহিংস রূপ দিতে উস্কানি, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড আড়াল করা এবং গণতান্ত্রিক দল আওয়ামী লীগকে জনবিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা এই মিডিয়ার অংশ বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্রমেই সোচ্চার হচ্ছে একটি আহ্বান: এই চাটুকার মিডিয়াকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে এবং সত্য-ভিত্তিক বিকল্প গণমাধ্যম গড়ে তুলতে হবে।
গণতন্ত্রের বিকাশে স্বাধীন সাংবাদিকতা অপরিহার্য। কিন্তু যখন এই স্বাধীনতাকে অপব্যবহার করে পক্ষপাতদুষ্ট প্রচার চালানো হয়, তখন তা পুরো সমাজ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই নাগরিক সমাজের এখন দায়িত্ব, মিথ্যাচার রুখে দাঁড়ানো এবং সাহসিকতার সঙ্গে সত্য কথা বলা।
