অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ইউনূসের দূরদর্শনাহীন পররাষ্ট্রনীতি ও ক্ষমতা রক্ষার মরিয়া চেষ্টা বাংলাদেশকে যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক পতনের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্লেষণ তুলে ধরছে জাতীয় বিপর্যয়ের আশঙ্কা।
২ মে ২০২৫; বাংলাদেশ আজ এক সংকটময় সময় পার করছে। অস্বাভাবিক এক প্রেক্ষাপটে গঠিত ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে এমনসব পদক্ষেপ নিচ্ছে যা রাষ্ট্রকে গভীর অনিশ্চয়তা এবং বিপদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
এই সরকার কোনো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি। জনগণের অনুমোদন ছাড়াই এরা পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।
ক্ষমতা ধরে রাখার মরিয়া কৌশল, নাকি জাতির ভাগ্যের সঙ্গে জুয়া?
সরকারপ্রধান ইউনূস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্ত বিদেশি সমর্থন লাভ এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধীদের দমন করতে গিয়ে দেশের কূটনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করেছেন। একদিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমাগত অবনতির দিকে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান অনির্ভরযোগ্য এবং অস্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার মূলত নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য কৌশলগতভাবে বিদেশি শক্তির কাছে নতি স্বীকার করছে। এর ফলে দেশীয় স্বার্থকে বারবার জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে।
যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক দুর্দশার দ্বিমুখী বিপদ
- অঞ্চলীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি: সীমান্তে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা, জলসীমা ও বাণিজ্য ইস্যুতে আক্রমণাত্মক বক্তব্য, এবং কূটনৈতিক কটাক্ষ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের মুখোমুখি হতে পারে।
- অর্থনৈতিক সংকটের বিস্তার: বিনিয়োগ কমেছে, রিজার্ভ নিচে নেমেছে, রেমিট্যান্স কমছে, এবং শিল্প খাতে অস্থিরতা চলছে। এর মধ্যেই সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে গ্যাস ও জ্বালানি চুক্তিগুলো জনস্বার্থবিরোধী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- জনঅসন্তোষ দমন: গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ, শ্রমিক ও শিক্ষার্থী বিক্ষোভ দমন, এবং বিচারবহির্ভূত গ্রেপ্তার—এইসবই একটি ‘সুরক্ষিত একনায়কতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার আভাস দিচ্ছে।
কূটনৈতিক দূরদর্শিতা কোথায়?
একটি দায়িত্বশীল সরকার হলে, এই মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করত। কিন্তু ইউনূস সরকারের সমস্ত মনোযোগ শুধুই একদলীয় কর্তৃত্ব স্থাপনের দিকে।
পররাষ্ট্রনীতিতে যে অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা কেবলই অনভিজ্ঞতা নয়—এটি একটি নির্লজ্জভাবে ক্ষমতা-লালসার প্রকাশ।
বাংলাদেশ ভুল পথে চলছে। আমাদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়ে পড়েছে একটি অবৈধ সরকারের বেপরোয়া সিদ্ধান্তে। যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক পতনের দ্বিমুখী ঝুঁকির মুখে জাতিকে রক্ষা করতে হলে এখনই জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এ দেশ কার, এবং কারা এই রাষ্ট্রের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।
