সিলেটের বরজন টি কোম্পানির তিনটি চা বাগান ও একটি কারখানার ২,৫০০ শ্রমিক পাঁচ মাসের বেতন ও রেশন দাবি করছে। শ্রমিকরা সরকারের মিথ্যা দাবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন।
২ মে ২০২৫;
সিলেটের বরজন টি কোম্পানির অধীনে তিনটি চা বাগান ও একটি কারখানায় কাজ করা প্রায় ২,৫০০ শ্রমিক পাঁচ মাস ধরে বেতন এবং রেশন না পেয়ে চরম দুর্দশায় জীবনযাপন করছেন। শ্রমিকদের লাগাতার প্রতিবাদ, অবস্থান, এবং দাবিপত্র সত্ত্বেও আজও তাঁদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়নি।
সরকারের “পূর্ণ বেতন পরিশোধ” দাবি শ্রমিকদের ভাষায় “মিথ্যা”
২০২৫ সালের এপ্রিলে, প্রধানমন্ত্রী ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা দিয়েছিল—“চা শিল্পের কোনো শ্রমিক বেতন বাকি নেই।” অথচ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই ঘোষণা বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত। বরজন টি কোম্পানির শ্রমিকরা স্পষ্ট ভাষায় জানাচ্ছেন, তাঁরা এখনও পাঁচ মাসের বেতন ও রেশন পাননি।
চা শ্রমিক সোমা বুনার্জি (৩৫) বলেন:
“তাদের উচিত আমাদের দায়িত্ব নেওয়া, নাহলে আমাদের বিষ দিয়ে হত্যা করা, যাতে আমরা খেয়ে মারা যেতে পারি। আমরা আর এভাবে বাঁচতে পারি না।”
এই বিবৃতি একটি সম্পূর্ণ শ্রেণির হাহাকার, অবহেলা ও নিপীড়নের জ্বলন্ত চিত্র তুলে ধরে।
চা শিল্পে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা
চা শ্রমিকদের জীবন historically অবহেলার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ করেও তাঁরা পান মাত্র ১২০-১৭০ টাকা দৈনিক মজুরি। এই অর্থ দিয়ে পরিবার চালানো, চিকিৎসা, শিক্ষা এমনকি ন্যূনতম খাবার সংগ্রহও সম্ভব নয়।
এই পরিস্থিতিতে পাঁচ মাসের বেতন ও রেশন বন্ধ থাকা মানে—ক্ষুধা, ঋণ, অপুষ্টি এবং আত্মসম্মানহানিকর জীবন।
বরজন টি কোম্পানির দায় ও সরকারের নির্লিপ্ততা
বরজন টি কোম্পানি এই বকেয়ার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। ইউনিয়ন নেতারা বলছেন, মালিকপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে এই অর্থ আটকে রেখেছে। সরকারও এই বিষয়ে কার্যকর হস্তক্ষেপ করেনি।
সরকারের বক্তব্য ও বাস্তবতার এই disconnect আরও একবার প্রমাণ করে—শ্রমজীবী মানুষ রাষ্ট্রীয় নীতিমালার শেষ প্রান্তে অবস্থান করছে।
উপসংহার: চায়ের কাপের পেছনে কান্না
যে চা আমরা প্রতিদিন পান করি, তার পেছনে আছে হাজারো সোমা বুনার্জির কষ্ট, ক্লান্তি, আর অবহেলা। এই শ্রমিকরা রাষ্ট্র ও কর্পোরেট কাঠামোর দ্বারা প্রতিনিয়ত লাঞ্ছিত হচ্ছেন।
সরকার যদি শ্রমিকদের প্রতি দায়শীল না হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—এই রাষ্ট্রের কাছে কারা নাগরিক?
