স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের বিরুদ্ধে ওঠে জঙ্গি আশ্রয়দাতা রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকায় দ্বিচারিতার অভিযোগ। ওসামা বিন লাদেন প্রসঙ্গেও জবাব ঘোলাটে।
রাষ্ট্রীয় নীতিতেই কি জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়েছিল পাকিস্তান?
ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ-এর একটি সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার-কে কড়া প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। সাংবাদিক ইয়ালদা হাকিম জানতে চান— পাকিস্তান কি রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে ওসামা বিন লাদেন-সহ বিভিন্ন জঙ্গি নেতাকে আশ্রয় দিয়েছিল?
আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, পাকিস্তানে বর্তমানে কোনো জঙ্গি আস্তানা নেই। কিন্তু ২০১১ সালে অ্যাবোটাবাদে মার্কিন অভিযানে ওসামা বিন লাদেন-এর নিহত হওয়ার ঘটনার কথা তুলে ধরে প্রশ্ন করেন হাকিম— তাহলে তিনি লুকিয়েছিলেন কোথায়?
খাজা আসিফের পুরোনো বক্তব্য সামনে আনেন সাংবাদিক
সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক ইয়ালদা হাকিম পাকিস্তানের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মো. আসিফ-এর একটি স্বীকারোক্তির প্রসঙ্গ তোলেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন— “পাকিস্তান বহু বছর ধরে একাধিক জঙ্গি সংগঠনকে অর্থ সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে এবং নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারও করেছে।”
এই বক্তব্যের রেশ টেনেই প্রশ্ন তোলেন ইয়ালদা— তাহলে কি জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় নীতি?
৯/১১ প্রসঙ্গ টেনে আত্মপক্ষ সমর্থন
আতাউল্লাহ তারার বলেন, “৯/১১-এর পর থেকে জঙ্গি দমনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে পাকিস্তান। আমরা পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে মিলে জঙ্গি ও সাধারণ জনগণের মাঝে দেয়াল তুলে দিয়েছি।”
কিন্তু ইয়ালদা হাকিম পাল্টা প্রশ্ন করেন— “আপনাদের সামরিক শহর অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেন ছিলেন। এমনকি রিপোর্ট বলছে, মার্কিন হেলিকপ্টার লাদেনকে হত্যা করে ফিরে যাওয়ার ২৪ মিনিট পর পাকিস্তানের ফাইটার জেট আকাশে উঠেছিল।” তিনি আরও বলেন, “আপনাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, পারভেজ মোশাররফ, বেনজির ভুট্টো, বিল্লাল ভুট্টো সবাই স্বীকার করেছেন পাকিস্তানে জঙ্গিদের আশ্রয় ছিল এবং আছে।”
আল-জাজিরা ফাঁস করে তদন্ত প্রতিবেদন
২০১১ সালের ২ মে অ্যাবোটাবাদে মার্কিন অভিযানে লাদেন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান সরকার একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। কমিশন ২০১ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও, তা গোপন রাখা হয়। পরে আল জাজিরা সেই প্রতিবেদন ফাঁস করলে পাকিস্তান তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওসামা ২০০২ সালে পাকিস্তানে ঢুকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নির্বিঘ্নে আত্মগোপনে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের হেলিকপ্টার আক্রমণের পরও পাকিস্তান তা শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। সামরিক গোয়েন্দা ব্যর্থতার দায়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও দায়ী করা হয়।
উপসংহার: দ্বিচারিতা নাকি বাস্তবতা?
পাকিস্তান একদিকে জঙ্গি দমনের দাবিদার, অন্যদিকে ওসামার মতো কুখ্যাত সন্ত্রাসীর আশ্রয়স্থল। এতে করে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। পাকিস্তানের মন্ত্রীদের বক্তব্য বারবার নিজেদের ভেতরে সাংঘর্ষিক এবং পূর্বতন ইতিহাসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
