চাঁদাবাজির অভিযোগে চট্টগ্রামে জনতার হাতে আটক হন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাছির। পরে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় সংগঠনের স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
১৪ মে ২০২৫:
চট্টগ্রাম নগরের জনাকীর্ণ এলাকায় ১৩ মে ২০২৫, জনতার হাতে আটক হয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ (ববি-ছাআ)-এর চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, নাছির নিচু কণ্ঠে বারবার দুঃখ প্রকাশ করছেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
নাছিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি স্থানীয় পরিবহন ব্যবসায়ী, দোকানদার ও অস্থায়ী হকারদের কাছ থেকে ‘সংগঠনের নামে চাঁদা’ আদায়ের চেষ্টা করছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে, পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এমন সময়েই জনতার সামনে ভিডিওতে নাছির বলেন:
“ভুল হয়েছে ভাই, আমি দুঃখিত। আমি আর করবো না। আমি ক্ষমা চাই।”
⚠️ ‘বৈষম্য বিরোধী’ নামের আড়ালে চাঁদাবাজি?
এই ঘটনা প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিয়ে। আদৌ কি এই সংগঠন বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার, নাকি ‘ছাত্র আন্দোলন’ আখ্যায় সমাজের প্রান্তিক জনগণকে ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের এক নতুন পদ্ধতি?
চট্টগ্রামে ববি-ছাআ এর কিছু নেতার বিরুদ্ধে অতীতেও রেলওয়ের অবৈধ পণ্য পরিবহন সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
🧩 রাজনৈতিক প্রভাব ও ছাত্র রাজনীতির দেউলিয়াপনা:
নাছিরের মতো নেতারা হয়তো কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের কারণে এ ধরনের সংগঠনের নাম ব্যবহার করছেন। কিন্তু এমন কর্মকাণ্ডে প্রকৃত ছাত্র আন্দোলনের আদর্শ ও নৈতিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক অভিভাবকশূন্য এই সংগঠনগুলো দিনে দিনে ছায়া বাহিনী বা চাপ সৃষ্টিকারী শক্তিতে রূপ নিচ্ছে।
🗣️ জনগণের প্রতিক্রিয়া:
সামাজিক মাধ্যমে বহু ব্যবহারকারী এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলছেন—
“এরা ছাত্র নয়, চাঁদাবাজ। আন্দোলনের নামে জনগণকে হয়রানি করছে।”
একজন মন্তব্য করেন:
“ছাত্র নামধারী এমন লোকদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা দরকার ছিল। এমন বিচার হোক আরও।”
🎯 সাংগঠনিক জবাবদিহিতা দরকার:
এই ঘটনায় ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোনো বিবৃতি দেয়নি এখনো। নাছিরের বিরুদ্ধে সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে, এটি প্রমাণিত হবে—এই চাঁদাবাজি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সংগঠনের ছত্রছায়ায় সংঘটিত একটি প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ।
