বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আজ সংকটে। করিডোর প্রকল্পের আড়ালে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে। এই মুহূর্তে সেনাবাহিনীর ভূমিকা দেশরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু একটি প্রতিরক্ষা বাহিনী নয়—তারা জাতির আত্মপরিচয়, আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতার প্রতীক। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা দুর্যোগ মোকাবেলায় তাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস জাতির হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। তবে আজকের প্রেক্ষাপটে, সেনাবাহিনীর ভূমিকা কেবল ঐতিহাসিক স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এক নতুন ধরনের হুমকি আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে—যার নাম করিডোর কূটনীতি।
জাতিসংঘের ‘মানবিক সহায়তা করিডোর’ প্রকল্পটি শুরুতে শুনতে নিরীহ মনে হলেও, এর গভীরে রয়েছে এক সুপরিকল্পিত কৌশল যার উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক স্বার্বভৌমত্বে অনুপ্রবেশ করা। রোহিঙ্গা ইস্যুর আড়ালে এই করিডোর স্থাপনের মধ্য দিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক শক্তি চায় দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে।
ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়, বিদেশি হস্তক্ষেপ কখনোই মানবিকতার নাম করে শুরু হয় না—শুরু হয় কৌশলের ছদ্মবেশে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে সেনাবাহিনী। তাদের সতর্কতা, উপস্থিতি এবং নীতিনিষ্ঠ অবস্থানই পারে এই কৌশলগত অনুপ্রবেশকে প্রতিহত করতে। যদি তারা সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়, তবে বাংলাদেশের ভূখণ্ড হয়ে উঠতে পারে একটি ভূরাজনৈতিক খেলার মাঠ—যেখানে দেশীয় জনগণের কণ্ঠস্বর থাকবে না, থাকবে কেবল বাইরের নির্দেশনা।
যখন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব দুর্বলতা দেখায় কিংবা সংবিধানের বাইরের পথে হাটে, তখন বাইরের শক্তি তৎপর হয়ে ওঠে। কথিত ‘নোবেল জয়ী’ ইউনুসসহ কিছু ব্যক্তি নিজের স্বার্থে আন্তর্জাতিক চাপকে উৎসাহিত করছেন। তারা ভাবেন, দেশের ক্ষতির বিনিময়ে নিজের অবস্থান রক্ষা করা যেতে পারে। অথচ তারা ভুলে যান, ইতিহাস কখনো বিশ্বাসঘাতকদের ক্ষমা করে না।
এমন এক সময়ে, যখন ভূরাজনীতি কেবল কূটনৈতিক চুক্তিতে সীমাবদ্ধ নয় বরং তথ্য, প্রযুক্তি, ও মানবিক সহায়তার মুখোশে আগ্রাসী হয়—বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকেই হতে হবে সর্বপ্রথম প্রতিরক্ষার দুর্গ।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এখন সেনাবাহিনীর দৃঢ়তা ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের উপর নির্ভরশীল। তারা যদি এখন সিদ্ধান্ত না নেয়, কাল হয়তো সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় থাকবে না। এই মুহূর্তে যদি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বিদেশি করিডোর স্থাপিত হয়, তবে তা হবে এক ধরণের দখলদারিত্বের শুরু—যা আমাদের সার্বভৌমত্বের অবসান ঘটাবে।
সেনাবাহিনীকে বুঝতে হবে, তাদের দায়িত্ব শুধু সশস্ত্র রণক্ষেত্রে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার প্রতিটি স্তম্ভে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ব্যর্থ হলেও, সামরিক বাহিনী কখনোই জাতীয় স্বার্থের বাইরে অবস্থান নিতে পারে না।
আজ যেটি সিদ্ধান্ত—কাল তা ইতিহাস হয়ে যাবে। সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য, প্রতিটি কমান্ড, প্রতিটি অবস্থান আজ একটি ঐতিহাসিক সীমানার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে। তারা চাইলে আজ দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারে, না চাইলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক পরাধীন বাস্তবতায় জন্ম নেবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, আপনাদের সামনে আজ কেবল দায়িত্ব নয়, ইতিহাস রচনার সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ গ্রহণ করুন। দেশের আকাশ-মাটি-মানবিক মর্যাদা রক্ষায় আপনারাই জাতির শেষ আশ্রয়।
