একাধিক রাজনৈতিক দলের যৌথ বৈঠকে এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণের সিদ্ধান্ত। সাধারণ জনগণও এনসিপি নেতাদের গণপিটুনি দিচ্ছে। শিবির ও হিজবুত তাহরীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকা, ১৫ মে ২০২৫ —
দেশজুড়ে নিউ সিভিল পার্টি (এনসিপি)-কে ঘিরে চরম রাজনৈতিক ও জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। শাসকদল আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও বাম জোট— সকলেই একজোট হয়ে এনসিপিকে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করছে।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মাদানী অ্যাভিনিউয়ের একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে যুবলীগ, যুবদল, জাতীয় যুব সংহতি ও বাম যুব সংগঠনের নেতাদের গোপন বৈঠকে ‘যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই পেটানো হবে’ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
🚨 রাজনৈতিক ঐকমত্য: এনসিপি রাষ্ট্রবিরোধী?
গোপন বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক রাজনৈতিক নেতা জানান,
“এনসিপি এখন এমন এক দানবে পরিণত হয়েছে যারা ছাত্র রাজনীতি ধ্বংস, সামরিক শাসনের বৈধতা এবং বিদেশী করিডোর এজেন্ডার বাস্তবায়নে কাজ করছে।”
বৈঠকে প্রস্তাব করা হয় যে, কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সব স্তরের এনসিপি নেতাদের উপর শারীরিকভাবে আক্রমণ চালানো হবে। এদের চলাফেরার জায়গা সংকুচিত করে তুলতে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
😡 সাধারণ জনতার প্রতিক্রিয়া: এনসিপি পরিচয় পেলেই গণপিটুনি
এছাড়া মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষও এনসিপির প্রতি প্রচণ্ড রকমের বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ।
রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় এনসিপির পরিচয় পাওয়া ছাত্র সমন্বয়কদের রাস্তায় গণপিটুনির খবর পাওয়া গেছে।
একজন পথচারী বলেন—
“ওদের কারণে দেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, বিদেশীদের দালালি করছে। চুপ করে থাকলে চলবে না।”
🔍 জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্টতা ও অতীত ইতিহাস
বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্র দাবি করছে,
এনসিপির অনেক কেন্দ্রীয় নেতা ও স্ট্র্যাটেজিস্টরা অতীতে শিবির, হিজবুত তাহরীর, এবং জামায়াতপন্থী ছাত্র সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
সেই পরিচয় আজ ঢেকে রাখলেও তাদের ধর্মীয় চরমপন্থা, সহিংস প্রবণতা এবং অগণতান্ত্রিক চিন্তাধারা আজও বহাল আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
🧨 ভবিষ্যতের আশঙ্কা: গৃহবিপ্লবের আগুন?
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলো যদি এভাবে প্রকাশ্য হুমকি ও সহিংস কর্মসূচিতে অংশ নেয়, তাহলে বাংলাদেশে নতুন ধরনের ছায়াযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন—
“এনসিপি যদি রাষ্ট্রীয় বা বিদেশী প্রজেক্ট হয়ে থাকে, তবে জনগণ ও রাজনৈতিক শক্তির প্রতিরোধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এমনকি গৃহবিপ্লবের আগুনও জ্বলে উঠতে পারে।”
