গণআন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা ছাত্র সমাজের প্রতিনিধিদের সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের দাবি জানিয়েছে ছাত্র ফেডারেশন। সময় এসেছে তরুণ নেতৃত্বকে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে যুক্ত করার।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছাত্র আন্দোলন সবসময়ই ছিল গণতন্ত্র, অধিকার ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থানের এক সাহসী প্রতীক। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে অনুষ্ঠিত গণআন্দোলনে দেশের প্রায় সব প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রসমাজ রাজপথে সক্রিয় থেকে তা আবারও প্রমাণ করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, বুয়েট, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, জগন্নাথ, ইডেন কলেজ, ঢাকা কলেজ থেকে শুরু করে রংপুরের কারমাইকেল কলেজ—প্রতিটি জায়গা থেকে ছাত্রছাত্রীরা গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের দাবিতে সামনে আসে। তারা শুধু আওয়াজ তোলে না, নেতৃত্বও দেয়।
🧭 এখন সময় তাদের মূল্যায়নের
এই সাহসী অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ, ছাত্র ফেডারেশন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংগঠকরা সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে ছাত্রনেতাদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের প্রত্যেক বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন করে ছাত্রনেতাকে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক।
এই উদ্যোগ শুধু একটি প্রতীকী মর্যাদা নয়, বরং নীতিনির্ধারণে তরুণদের বাস্তব অংশগ্রহণের দিকেই এগিয়ে যাওয়া। তরুণরাই জানে কীভাবে প্রযুক্তি, সমাজ ও নতুন প্রজন্মের চাহিদা নিয়ে কাজ করতে হয়।
⚠️ বিতর্কিত উপদেষ্টা অপসারণের দাবি
একইসাথে ছাত্র ফেডারেশন দাবি জানিয়েছে, এনপিসি নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসনের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা দুজন বিতর্কিত উপদেষ্টাকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। অভিযোগ রয়েছে তারা ছাত্র আন্দোলনের স্বার্থবিরোধী ভূমিকা রেখেছে এবং শিক্ষার্থীদের আস্থার সংকট তৈরি করেছে।
ছাত্র ফেডারেশনের মতে, এই ধরনের নেতৃত্ব বর্তমান গণআন্দোলনের চেতনা এবং মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
🔍 প্রতিনিধিত্বশীল ভবিষ্যৎ গঠনের প্রয়োজনীয়তা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা মানে এক নতুন প্রতিনিধিত্বশীল, জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক কাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়া। রাষ্ট্র যদি সচেতন, শিক্ষিত ছাত্র সমাজকে বাদ দেয়—তা হলে গণতন্ত্র অপূর্ণ থেকে যাবে।
"রাষ্ট্র যদি তরুণদের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করে, তবে ভবিষ্যৎও রুদ্ধ হয়ে যায়।"
📢 রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহলের প্রতি আহ্বান
ছাত্রসমাজ তাদের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা, মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং সেনাবাহিনীর প্রধানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—
- ✅ উপদেষ্টা পরিষদে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করুন
- ✅ বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণ করুন
- ✅ আগামী নেতৃত্ব গঠনে ছাত্র সমাজকে সম্পৃক্ত করুন
এটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী একটি প্রস্তাব—যা বাস্তবায়ন হলে শুধু ছাত্র সমাজ নয়, বরং পুরো বাংলাদেশই উপকৃত হবে। তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ সম্ভব নয়।
