তিন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী। আসিফ নজরুলসহ অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি।
রাজনীতির উত্তপ্ত মঞ্চে নতুন করে আলোড়ন তুললেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন— তিন উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করাতে বাধ্য করা হবে।
বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবিতে। এ সময় ইসি ভবনের সামনে ব্যারিকেড ভেঙে অবস্থান নেন এনসিপি নেতাকর্মীরা।
⚠️ আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ
বিএনপিপন্থী উপদেষ্টা হিসেবে ইঙ্গিত করে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সম্পর্কে বলেন, তিনি জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে টালবাহানা করছেন। পাটোয়ারীর ভাষায়, “জনগণের রক্তের সঙ্গে তিনি বেইমানি করছেন। ঘোষণা না দিলে দেশে থাকতে পারবেন না।”
এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, এনসিপি এ মুহূর্তে আসিফ নজরুলের ভূমিকা নিয়ে গভীর অসন্তোষে রয়েছে। তাদের মতে, তিনি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।
📉 অর্থনীতি ও প্রশাসনের ওপর উপদেষ্টাদের ‘বিপজ্জনক প্রভাব’
নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন—
- পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ
- অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ
এই দু’জন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে “গুঁড়িয়ে দিতে” কাজ করছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “আইন মন্ত্রণালয় গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন আসিফ নজরুল।” এনসিপির দাবি, এই উপদেষ্টারা বিএনপির মুখপাত্রের মতো আচরণ করছেন, যা প্রশাসনের নিরপেক্ষতার মূলনীতিকে ধ্বংস করছে।
🗳️ নির্বাচন কমিশন নিয়ে ঘনিয়ে উঠছে বিতর্ক
পাটোয়ারীর ভাষায়, ইসি এখন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “ইসি পুনর্গঠন ছাড়া এনসিপি কোনো ভোটে অংশ নেবে না।” পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনে তিনি কমিশনকে প্রস্তাবনা মানার আহ্বান জানান।
🔥 মুজিবীয় সংবিধানের বিরুদ্ধেও মন্তব্য
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে মুজিবীয় সংবিধান চলবে না।” এটি শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং একটি স্পষ্ট আদর্শিক অবস্থান, যা আগামী নির্বাচনের রাজনীতিকে আরও বিভক্ত করতে পারে।
নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। উপদেষ্টাদের নিয়ে অব্যাহত বিতর্ক, ইসির ওপর অনাস্থা, এবং বিএনপির প্রভাব সংক্রান্ত অভিযোগ— সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহগুলোতে রাজনীতিতে সংঘাত ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার নতুন তরঙ্গ দেখা যেতে পারে।
