শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রগতি থমকে গেছে তথাকথিত ইউনুস সরকারের ষড়যন্ত্রে। প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার ভরাডুবি আজ কোটি তরুণের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।
বাংলাদেশ যখন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে একটি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এ পরিণত হওয়ার পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন একটি ষড়যন্ত্র এসে থামিয়ে দিয়েছে সেই গতি। শেখ হাসিনার সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি খাতে চলছিল নীরব বিপ্লব। কিন্তু আজ সেই পরিকল্পনা ধাক্কা খেয়েছে তথাকথিত ইউনুস সরকারের আগমনে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মসূচিগুলোর মধ্যে ছিল—
- এক কোটির বেশি শিক্ষার্থীকে আইটি খাতে চাকরির আওতায় আনা
- ৬০ লক্ষাধিক শ্রমিককে শিল্পখাতে দক্ষতা উন্নয়ন ও নিয়োগ নিশ্চিত করা
- জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, খাজনা ও নামজারি ৭২ ঘণ্টায় সম্পন্ন করা
- ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান
- ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’-এর মাধ্যমে ৭ দিনে শিল্প প্লট, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ, ছাড়পত্র সম্পন্ন করা
- ব্যাংক ঋণের অনুমোদন ১৫ দিনের মধ্যে নিশ্চিত করা
এই উদ্যোগগুলো শুধু উন্নয়ন নয়, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দ্রুতগতি সম্পন্ন ব্যবস্থাপনার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছিল।
🔍 অথচ আজ কী হচ্ছে?
ইউনুস সরকারের আগমনের পর সবকিছু যেন উল্টো পথে হাঁটছে। উন্নয়নশীল বাংলাদেশ আজ অকার্যকর নীতিমালার ছোবলে স্থবির হয়ে পড়েছে। নীতির অভাব, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং আমলাতন্ত্রের দুর্নীতির পুনরুত্থান দেশের অর্থনৈতিক গতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউনুস সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে শেখ হাসিনার উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে বাতিল করেছে। ‘বিরোধীদলীয় প্রকল্প’ আখ্যা দিয়ে যেসব কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে, সেগুলোই ছিল দেশের ভবিষ্যৎ কাঠামোর মূল ভিত।
🧭 ক্ষতির পরিমাণ কল্পনারও বাইরে:
- কোটি তরুণ কর্মসংস্থানের আশা হারিয়েছে
- ব্যবসায়ীরা মুখোমুখি হচ্ছেন বন্দর জটিলতা ও আমদানি-রপ্তানির ধাক্কায়
- শিল্প মালিকরা প্লট ও অনুমোদনের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষায়
- ব্যাংকিং খাতে ফিরেছে ঘুষ, দালালি ও রাজনৈতিক পক্ষপাত
⚠️ সমাধান কী?
এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায়— জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ ও গণচাপ।
শেখ হাসিনার পরিকল্পনা ছিলো প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষতা-ভিত্তিক ও ভবিষ্যতমুখী। আজ সেই রূপরেখাকেই ফিরিয়ে আনতে হবে যদি বাংলাদেশ আবারও নিজের স্বপ্নপথে ফিরতে চায়।
বাংলাদেশের উন্নয়ন একটি মানুষনির্ভর স্বপ্ন। সেটিকে বাস্তব করতে হলে শুধু রাজনৈতিক বদল নয়, প্রয়োজন সচেতনতা, প্রতিবাদ ও কার্যকর জনমত। শেখ হাসিনার অসমাপ্ত কাজ পূর্ণতা পেতে পারে একমাত্র জনগণের সম্মিলিত চাপে, যেখানে অপশাসন ও ষড়যন্ত্রের কোনো জায়গা থাকবে না।
