Yunus Not Invited to 2025 Qatar Economic Forum: What It Signals About His Global Standing
বিশেষ প্রতিনিধি: স্বপ্নীল আর্য;
২০২৫ সালের কাতার ইকোনমিক ফোরামে ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমন্ত্রণ না পাওয়ায় তার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও বর্তমান ভূমিকাকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
এনজিও থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি: ইউনূসের গ্রহণযোগ্যতা কি কমছে?
কাতারের রাজধানী দোহায় ২৩-২৫ মে অনুষ্ঠিতব্য ৫ম কাতার ইকোনমিক ফোরামে এবার বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমন্ত্রণ পাননি, যা তার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এই ফোরামটি মূলত বিশ্ব অর্থনীতি, টেকসই উন্নয়ন, বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সংলাপের এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ, যেখানে প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধান, নীতিনির্ধারক ও কর্পোরেট নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
২০২৩-এর সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি
২০২৩ সালে আয়োজিত তৃতীয় কাতার ইকোনমিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমন্ত্রিত ছিলেন এবং তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তৃতা প্রদান করেন। তার এই উপস্থিতি কাতার-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি কূটনৈতিক মাইলফলক ছিল।
সফরকালে তিনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ আল কাবি, এবং সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন, যা বাংলাদেশকে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহযোগিতায় বড় অগ্রগতি এনে দেয়।

কেন বাদ পড়লেন ইউনূস?
ড. ইউনূস সাধারণত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তার উপস্থিতি, বিশেষ করে উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় ও মাইক্রোক্রেডিটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে পরিচিত মুখ। তবে এবারের কাতার ফোরাম থেকে তার বাদ পড়া তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ:
- ব্যক্তিগত বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগ: সাম্প্রতিক সময়ে ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রমিক নিপীড়ন, অর্থ পাচার, এবং এনজিওর নাম করে বিদেশি ফান্ডের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
- ভবিষ্যতের বৈশ্বিক মডেলে স্থান সংকুচিত: কর্পোরেট-নির্ভর ‘ইনক্লুসিভ ক্যাপিটালিজম’-এ ইউনূসের এনজিওবাদ হয়তো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।
- রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়া: বাংলাদেশে চলমান রাজনীতিতে ইউনূসের বিতর্কিত ভূমিকা তাকে আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোর ‘নিরপেক্ষ’ তালিকা থেকে বাদ দিতে বাধ্য করেছে।
আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও বাস্তবতা
যখন বিশ্ব অর্থনীতির নেতৃত্বাধীন ফোরামগুলো কার্যকর নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা এবং স্থিতিশীল ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগ্রহী, তখন ড. ইউনূসের অনুপস্থিতি একটি বার্তা বহন করে—ব্যক্তিগত সুনাম আর রাজনৈতিক বিতর্ক একসঙ্গে চলতে পারে না।
যেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে, সেখানে ইউনূস হয়তো ধীরে ধীরে ‘অবসোলেট ইকোনমিক ফিগার’-এ পরিণত হচ্ছেন।
ভবিষ্যতের পাঠ: গ্রহণযোগ্যতা অর্জন কিংবা হারানো
আন্তর্জাতিক মঞ্চে টিকে থাকতে হলে শুধু পুরনো অর্জন নয়, বর্তমান অবস্থান এবং বৈশ্বিক বাস্তবতাকে মান্য করতে হয়।
ড. ইউনূসের কাতার ফোরামে অনুপস্থিতি হয়তো একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং তার ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার প্রতিচ্ছবি।
এটা শুধু ব্যক্তি ইউনূস নয়, বরং বাংলাদেশের জাতীয় ভাবমূর্তিকেও স্পষ্ট করে দেয়—কে এখন বৈশ্বিক আস্থার প্রতীক, আর কে প্রশ্নের মুখে।
