ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত খলিলুর রহমান কীভাবে ২৩ বছর আত্মগোপনের পর রাষ্ট্রের অন্যতম সংবেদনশীল পদে আসীন হলেন? এই কলামে উঠে এসেছে ভয়ংকর এক বিচারহীন বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের ইঙ্গিত।

২০০১ সালের আগস্ট। রাজধানী ঢাকার নীলক্ষেত এলাকার বিসিএস প্রশাসন একাডেমির কোয়ার্টারে ঘটে যায় এক নিষ্ঠুর, বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ড। আয়েশা আফসারী, তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার প্রটোকল অফিসার, নিজ ঘরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ঘাতক তার স্বামী জহিরুল ইসলাম, যিনি হত্যার পর আত্মহত্যা করেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি হলেও এর অন্তরালে ছিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার ছায়ায় লুকিয়ে থাকা ধর্ষণ, প্রতারণা ও অপকর্মের এক নোংরা ইতিহাস।

তদন্ত ও সংবাদসূত্রে জানা যায়, আয়েশা আফসারী ছিলেন এক প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তার যৌন নিপীড়নের শিকার। সেই কর্মকর্তা ছিলেন খলিলুর রহমান—তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমানের ভায়রাভাই এবং তার দপ্তরের PS-1। আয়েশাকে নিউইয়র্কে পোস্টিংয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের শিকার করেন তিনি।

শুধু তাই নয়, খলিলুর রহমান নিজেও একই সময়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে পোস্টিং পান। ফলত, আয়েশা ও ধর্ষক খলিল একত্রে বিদেশে অবস্থান করেন। এই বাস্তবতা মানসিকভাবে ধ্বংস করে দেয় আয়েশার স্বামী জহিরুল ইসলামকে, যার পরিণতি ঘটে হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যায়।

হত্যার পর কিছুদিনের জন্য আলোচনায় এলেও, প্রকৃত অপরাধী খলিলুর রহমানকে রক্ষা করেন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান। তাঁর আশ্রয়ে দেশ ছাড়েন খলিল, আত্মগোপন করেন যুক্তরাষ্ট্রে। ছদ্মনাম ‘রজার রহমান’ ব্যবহার করে বসবাস করতে থাকেন নিউইয়র্ক, ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট ও মেরিল্যান্ডে। এমনকি ২০১৪ সালে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করে দাবি করেন তিনি বিএনপির সদস্য এবং দেশে ফিরলে প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে। এটি ছিল একটি ভয়ঙ্কর অপরাধের আড়াল করতে বিদেশি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করার নিখুঁত অপারেশন।
আরো ভয়াবহ সত্য হচ্ছে—আজ সেই খলিলুর রহমানই বসেছেন ‘জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা’র আসনে! নিয়োগ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যার নিজের নৈতিকতা নিয়ে রয়েছে অসংখ্য প্রশ্ন।
প্রশ্ন ওঠে—ড. ইউনূস কি জানতেন না খলিলুর রহমানের অতীত? নাকি এটি আন্তর্জাতিক শক্তির চাপে চাপিয়ে দেওয়া এক ষড়যন্ত্র, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নীতি, অভিবাসন ও রোহিঙ্গা কূটনীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে?
বর্তমানে খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা বিষয়েও প্রধান পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘মানবিক করিডর’ নামে পরিচিত রোহিঙ্গাদের নাগরিকীকরণ প্রক্রিয়া একটি বিদেশি এজেন্ডা, যার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এই অভিযুক্ত ধর্ষক। একই সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বিদেশি নিয়ন্ত্রণ, বিদেশি কোম্পানির গোপন শেয়ার বাজার লিস্টিং এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় পশ্চিমা সংস্থার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
খলিলুর রহমানের মতো ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকলে সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা, নারী অধিকার ও ন্যায়বিচারের ধারণা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? আজ প্রশ্ন—এই ধর্ষক কি শুধুই একজন অপরাধী, নাকি একটি বৃহৎ ভেতর থেকে পরিচালিত অপারেশনের মুখপাত্র? তার ২৩ বছরের আত্মগোপন, ছদ্মনাম ব্যবহার এবং হঠাৎ পুনরুত্থান কি কাকতালীয়, না পরিকল্পিত পুনর্বাসন?
আজ প্রয়োজন একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত। আয়েশা আফসারীর হত্যার পেছনের ধর্ষক খলিলুর রহমানের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে কোনো ধর্ষকের জায়গা হতে পারে না। এটি একমাত্র ন্যায়বিচার নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি প্রয়োজনীয় বার্তা—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
বাংলাদেশের জনগণ আজ উত্তর চায়—রাষ্ট্র কি ধর্ষকের আশ্রয়স্থল, না বিচার ও ন্যায়ের আধার? আমরা চাই খলিলুর রহমানের বিচার। এখনই।
