চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় ঝিনাইদহের শৈলকুপায় প্যানেল চেয়ারম্যানকে হাতুড়িপেটা করেছে বিএনপি কর্মীরা বলে অভিযোগ। ঘটনাটি রাজনৈতিক সহিংসতার একটি ভয়াবহ উদাহরণ হয়ে উঠছে।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য খেলাফত বিশ্বাসের উপর সম্প্রতি হামলা চালানো হয়। পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে।
শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে খেলাফত বিশ্বাসকে ঘিরে ধরে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। শুধু তাই নয়, হামলার পর তাকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, এ হামলার মূলহোতা হচ্ছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা উসমান মণ্ডল।
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার রাতে। গোবিন্দপুর গ্রামের একটি মাঠে স্থাপিত সোলার প্যানেল কে বা কারা কুপিয়ে নষ্ট করে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা কোনো তদন্ত বা প্রমাণ ছাড়াই কৃষক আরিফ মণ্ডলকে দায়ী করে, এবং তাকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার একতরফা রায় দেওয়া হয়।
খেলাফত বিশ্বাস এই বিচার প্রক্রিয়াকে অন্যায় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন। এর প্রতিক্রিয়ায়ই তাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এখানে শুধু ব্যক্তি আক্রমণের প্রশ্ন নয়, বরং এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং দুর্নীতির প্রকাশ্য বহিঃপ্রকাশ। একটি ইউনিয়নের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্দশা নয়, এটি প্রমাণ করে—স্থানীয় রাজনীতি কীভাবে অপরাধীচক্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই চক্রের বিরুদ্ধে কৃষক আরিফ মণ্ডল, তার ভাই ও বাবার ওপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ দুটি ঘটনার মিল স্পষ্টতই রাজনীতির আড়ালে চালিত মাফিয়া-ধাঁচের কার্যক্রমকে সামনে এনে দেয়।
শৈলকুপা থানার ওসি মাসুম খান সাংবাদিকদের জানান, তারা বিষয়টি শুনেছেন এবং আহত ইউপি সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত মামলা হয়নি, তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশ্ন হলো—অভিযোগের জন্য প্রশাসন কি অপেক্ষা করবে, নাকি প্রমাণিত ঘটনার ভিত্তিতে স্বপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নেবে?
শৈলকুপার ঘটনা শুধু একটি গ্রামের, একটি ইউনিয়নের, কিংবা একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়—এটি দেশের গোটা স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থায় ঘুণ ধরার প্রমাণ। যদি জনপ্রতিনিধি নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কে দেবে?
বিএনপির ওপর ওঠা এ অভিযোগ যদি মিথ্যা হয়, তাহলে দলটির উচিত হবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রশাসনকে সহায়তা করা।
আর যদি সত্য হয়, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া থেকে বিরত থাকা।
