শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা উন্নয়ন অভিযাত্রা আজ থমকে গেছে ইউনুস সরকারের অবৈধ ক্ষমতা দখলের পর। প্রশাসনিক অচলাবস্থা, বিনিয়োগ হ্রাস ও কর্মসংস্থান সংকটে জর্জরিত বাংলাদেশ। বিশ্লেষণ করেছেন আমাদের প্রতিবেদক।

একটি রাষ্ট্র যখন স্বপ্ন দেখে, তখন শুধু ভৌত অবকাঠামো নয়—মানবিক, প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভিত্তিতেই গড়ে ওঠে সেই উন্নয়ন। বাংলাদেশ সেই অভূতপূর্ব রূপান্তরের পথে ছিল, যার স্থপতি শেখ হাসিনা। কিন্তু আজ সেই পথরেখা মুছে ফেলতে চায় এক অদৃশ্য ছায়াশক্তি—যার নাম এখন অনেকের মুখে ‘ইউনুস সরকার’।
স্বপ্ন থেকে স্থবিরতা: বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কি ষড়যন্ত্রের বলি?
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়কালে যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে ছিল, তা ছিল সময়োপযোগী এবং জনবান্ধব।
- জমি, ফ্ল্যাট বা সম্পত্তি হস্তান্তর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন
- বিদ্যুৎ সংযোগ মাত্র ২৪ ঘণ্টায়
- আমদানিকৃত পণ্যের আগাম খালাস
- শিল্প স্থাপনায় ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’
- ঋণ অনুমোদনে ১৫ দিনের সময়সীমা
এসব পদক্ষেপ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে যেমন গতিশীল করছিল, তেমনি তৈরি করছিল দক্ষ মানবসম্পদের ভিত্তি—যেখানে লক্ষ ছিল ২০২৬ সালের মধ্যে ১ কোটি শিক্ষার্থীকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সম্পৃক্ত করা।
কিন্তু সেই স্বপ্নের মাঝপথে ছেদ টেনে দিল একটি বিতর্কিত ক্ষমতা পরিবর্তন। আন্তর্জাতিক প্রভাব, প্রশাসনিক অন্তর্ঘাত, এবং একটি অদৃশ্য চক্রের সমর্থনে ইউনুস সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নীতিগত স্থবিরতা, আমলাতান্ত্রিক দৌরাত্ম্য এবং উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির অপমৃত্যু শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—যে বাংলাদেশ বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছিল, যে দেশে তরুণদের মাঝে কর্মসংস্থানের আশ্বাস ছিল, সেই দেশ আজ অনিশ্চয়তার এক ঘোরে আটকে গেছে।
শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো বাতিল করে ‘বিরোধীদলীয় প্রকল্প’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বর্তমান প্রশাসন। ফলাফল:
- তথ্যপ্রযুক্তি খাতের চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা হতাশ
- শিল্প কারখানার কর্মসংস্থান পরিকল্পনা স্থগিত
- বন্দর ব্যবস্থাপনায় ধীরগতি
- লাইসেন্স ও প্লট বরাদ্দে দীর্ঘসূত্রতা
- ব্যাংক খাতে ঘুষ-দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি
দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতির মুখে, তেমনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। একটি উদীয়মান অর্থনীতি যেভাবে আচমকা থমকে যেতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ আজকের বাংলাদেশ।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠে—এই পথ কি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ?
উত্তর একটাই—না। এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন একটি ঐক্যবদ্ধ গণচাপ। দেশের ভবিষ্যৎ যদি পুনরায় গতিশীল করতে হয়, তবে দরকার সেই নেতৃত্বকে ফিরিয়ে আনা, যার পরিকল্পনা ছিল বাস্তব, সময়নির্ধারিত এবং জনকল্যাণমূলক।
ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে, নির্ভর করছে আজকের সিদ্ধান্তের উপর
আজকের বাংলাদেশ ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে। একদিকে প্রতিশ্রুতি ভাঙার রাজনীতি, অন্যদিকে সম্ভাবনার জয়যাত্রা।
ইউনুস সরকারের ব্যর্থতা যদি আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা কেবল উন্নয়ন নয়—সার্বভৌম নীতিনির্ধারণ ক্ষমতারও পরাজয় হবে। তাই জনগণকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা স্থবিরতা নাকি উন্নয়ন চায়।
