কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘ত্রিপাক্ষিক বৈঠক’ ঘিরে উঠছে গুরুতর অভিযোগ—বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে আরাকান আর্মি ও মার্কিন বাহিনীর কৌশলগত প্রবেশের পথ তৈরি করছে ইউনুস সরকার। বিস্তারিত পড়ুন এই বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে।
কক্সবাজারের এক নিরব সৈকতে ঘটেছে এমন এক ঘটনা যা কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যও নড়বড়ে করে দিতে পারে। ঘটনাটি একটি তিন পতাকা বৈঠক—যেখানে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, মার্কিন সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনী, এবং মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।
🎯 প্রশিক্ষণ নাকি ষড়যন্ত্র?
ফায়ার সার্ভিস সূত্র বলেছে, এটি ছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ মিশন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ ও সামরিক সূত্র বলছে ভিন্ন কথা। সেখানে দেখা যায়, এই বৈঠক ছিল কৌশলগত সমঝোতা ও ভূখণ্ড ব্যবহারের চুক্তি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে একটি গোপন মিটিং।
বিশ্বস্ত সূত্র মতে, আলোচনার মূল বিষয় ছিল—
- আরাকান আর্মির ‘মানবিক করিডোর’ স্থাপন,
- মার্কিন ঘাঁটির জন্য বাংলাদেশের স্থল ও নৌসীমায় জায়গা বরাদ্দ,
- এবং রাখাইন ও পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনৈতিক ও সামরিক হস্তক্ষেপের রূপরেখা।
🛑 দেশ বিক্রির নেপথ্য ইচ্ছা?
নানা পক্ষের মতে, এই বৈঠক ইউনুস সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার বিনিময়ে দেশের সার্বভৌমত্বকে আন্তর্জাতিক শক্তির কাছে বন্ধক রাখার উদ্যোগ। ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তী সরকারের একজন মুখপাত্র, শফিকুল আলম, সাংবাদিকদের বলেন—‘গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ম্যান্ডেট পেয়েই করিডোর ও বন্দর নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার’।
এই বক্তব্য নতুন করে “গণতন্ত্র বনাম জাতীয় স্বার্থ” বিতর্ককে উস্কে দিয়েছে।
🪖 সেনাবাহিনীতে বিভক্তি?
প্রতিবেদনে জানা গেছে, সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরেও এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কিছু অংশ এ ধরনের চুক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক মনে করছে। সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে ঘিরে ক্যু'য়ের গুঞ্জন ও সাম্প্রতিক অতৃপ্তির সূত্রপাতও এই ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠককেন্দ্রিক বলে ধারণা।
🌍 ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ:
একজন বিশিষ্ট ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন,
“বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মিকে সক্রিয় করে তোলা এবং মার্কিন ঘাঁটি স্থাপন দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কোল্ড ওয়ারের সূচনা করতে পারে। এটি শুধু একটি সামরিক চুক্তি নয়, এটি একটি মানসিক ও রাষ্ট্রীয় দখলের ছক।”
❗ জনগণের অজান্তে কূটচাল?
এই বৈঠক বা আলোচনার ব্যাপারে কোনো গণতান্ত্রিক সংলাপ বা জাতীয় সংসদের আলোচনার ছাপ নেই। জনগণের অজান্তে দেশকে এক ভয়ঙ্কর কৌশলগত খেলায় জড়ানো হচ্ছে—যেখানে জাতি হবে কেবল প্রতিক্রিয়ার নিয়ন্ত্রিত দর্শক।
