বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন বলেন, ড. ইউনূস পদত্যাগ করলে সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, তবে রাষ্ট্র বসে থাকবে না। জনগণ বিকল্প বেছে নেবে। পড়ুন বিশ্লেষণ।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলমান গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে বিএনপি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ শুক্রবার (২৩ মে) দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন—“ড. ইউনূসের পদত্যাগ একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে, তবে বিএনপি কখনোই তার পদত্যাগ দাবি করেনি।”
তিনি আরও বলেন— “নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা না করে যদি তিনি দায়িত্ব ছাড়তে চান, সেটি তার নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু এক্ষেত্রে রাষ্ট্র বসে থাকবে না। প্রয়োজনে জনগণ বিকল্প বেছে নেবে।”
সালাউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সংস্কার এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে সমালোচনা চলছে।
এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট—বিএনপি এখনও সরকার পতনের সরাসরি আহ্বান না জানালেও তারা জনগণ-নির্ভর বিকল্প ব্যবস্থার পক্ষে মনোভাব দেখাচ্ছে।
তিনি বলেন—
“এই পৃথিবীতে কেউ অপরিহার্য নয়। আমরা আশা করি, একজন বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তি হিসেবে তিনি জাতির আকাঙ্ক্ষা বুঝবেন এবং ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন।”
📌 রাজনৈতিক ইঙ্গিত:
সালাউদ্দিনের এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা “সুশীল প্রতিরোধমূলক বার্তা” হিসেবে দেখছেন।
এতে এমন এক সংকেত দেওয়া হয়েছে যে—
- বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারে আস্থা হারাতে শুরু করেছে,
- তারা প্রয়োজনে জনগণের সমর্থনে বিকল্প চায়,
- তবে প্রকাশ্যে কোনো সরকারবিরোধী “আক্রমণাত্মক লাইন” নিতে চায় না।
🧭 ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা:
এই বক্তব্যে দুইটি বার্তা স্পষ্ট:
- ড. ইউনূস চাইলে থাকতে পারেন, কিন্তু থাকতে হলে এখনই রোডম্যাপ দিতে হবে।
- না চাইলে, জনগণ বিকল্প খুঁজবে এবং রাষ্ট্র সেই পথেই এগোবে।
এটি অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর বিএনপির চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
