ঢাকায় গোপনে গড়ে উঠছে ইউনূস-সমর্থিত সশস্ত্র মিলিশিয়া বাহিনী। বিদেশি অস্ত্রসহ জঙ্গিদের অবস্থানের তথ্য পেয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রাজধানী।
অনুসন্ধান বিভাগ, নিউজ ডেস্ক;
ঢাকায় অশান্তির ঘনঘটা: গোপনে গড়ে উঠছে জঙ্গি ঘাঁটি ও মিলিশিয়া বাহিনী
ঢাকার কেন্দ্রস্থলে—গোলিস্তান, কাকরাইল, মগবাজার, শাহবাগ, টিএসসি ও সেগুনবাগিচা—সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে জঙ্গি নেতাদের গোপন অবস্থানের তথ্য উঠে এসেছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। হিজবুত তাহেরী, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং এনসিপি’র মিলিত নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র বাহিনী তৈরির আলামত পাওয়া গেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই বাহিনীর কাছে রয়েছে বিদেশি অস্ত্র, যা বর্তমানে রাজধানীতে চলাচলকারী একাধিক মাইক্রোবাস ও কাভার্ড ভ্যানে রাখা হয়েছে। এসব অস্ত্র শুক্রবার জুমার নামাজের পর একটি বড় মিছিলে প্রদর্শন ও প্রয়োজনে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সামরিক চ্যালেঞ্জ, প্রাইভেট মিলিশিয়া ও ইউনূসের সংশ্লিষ্টতা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বাহিনী রাজনৈতিক কর্মী নয়, বরং একটি সুসংগঠিত প্রাইভেট মিলিশিয়া, যা পরিচালিত হচ্ছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায়। এই মিলিশিয়ার মূল লক্ষ্য সরকারবিরোধী সমাবেশ ও ইউনূসবিরোধী প্রতিবাদকারীদের উপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ভয় দেখানো, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা।
গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এদের লক্ষ্য দেশের সামরিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানানো। এই বাহিনী রীতিমতো গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরির পাঁয়তারা করছে।
🔍 অনুসন্ধান
পূর্বাপর বিশ্লেষণ: ইউনূসপন্থী মিলিশিয়া ও জঙ্গি সংগঠনের অন্ধকার সংযোগ
ঢাকায় গোপন সশস্ত্র প্রস্তুতি এবং তার পেছনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম উঠে আসা হঠাৎ করে ঘটেনি। বিগত এক দশকে বিভিন্ন সময় তাঁর আশপাশে থাকা কিছু সংগঠন, বিশেষত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত তরুণদের নিয়ে গঠিত তথাকথিত “সুশীল কর্মীবাহিনী”, বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। এরমধ্যে একাধিক সংগঠনের সঙ্গে চরমপন্থি গোষ্ঠীর আদর্শিক ও সাংগঠনিক মিল লক্ষ্য করা গেছে।
🔗 হিজবুত তাহেরী ও শিবিরের পুনর্গঠন
- হিজবুত তাহেরী ২০১০-এর পর নিষ্ক্রিয় হলেও ২০২2-এ তারা আবার সক্রিয় হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
- ইসলামী ছাত্রশিবির, যা পূর্বে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ছিল, বর্তমানে বহু ভাগে বিভক্ত হয়ে নানা নামে অনলাইন ও অফলাইন কার্যক্রম চালাচ্ছে।
- এনসিপি (Nationalist Conservative Party) নামে একটি নতুন ‘ইন্টেলেকচুয়াল সংগঠন’ সাম্প্রতিক সময়ে খোলাখুলিভাবে সরকারবিরোধী, সামরিক প্রতিরক্ষা হুমকি ও গণঅভ্যুত্থানের মতাদর্শ প্রচার করছে।
💰 অর্থায়ন, বিদেশি সংযোগ ও অস্ত্র সরবরাহ
- অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুসারে, এই মিলিশিয়াদের অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে প্রবেশ করা পার্ট-কনটেইনার চালানে।
- একটি সূত্র বলছে, লন্ডন, দুবাই ও ইস্তাম্বুলে থাকা কিছু এনজিও-আবরণী ফাউন্ডেশন থেকে প্রচুর ফান্ড এসেছে, যার লিংকস রয়েছে ইউনূসের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে।
- অতীতে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন কিছু প্রতিষ্ঠান ভারতের কট্টরপন্থী কিছু এনজিও ও পাকিস্তানের একটি ইসলামপন্থী দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ প্রকল্পে কাজ করেছে। সেখান থেকেও প্রাথমিক যোগাযোগ তৈরি হতে পারে বলে সন্দেহ।
🧠 জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির নীতি
- গুজব, পোস্টারিং, স্টুডেন্ট ফ্লায়ার—এই ত্রিমাত্রিক প্রচারণার মাধ্যমে জাতিকে মেরুকরণ ও বিভক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের একাংশকে ‘রাষ্ট্রপক্ষ ও রাষ্ট্রবিরোধী’ হিসেবে ধ্বংসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গিতে দীক্ষিত করার চেষ্টা চলছে।
⚠️ অতীতের ঘটনাপ্রবাহ
- ২০২৪ সালে শাহবাগে একটি ছাত্র সংগঠনের সহিংস মিছিলে ধৃতদের মোবাইল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তারা “একটি গভীর নেটওয়ার্কের অংশ” বলে প্রমাণ পাওয়া যায়, যার রিক্রুটার ছিলেন ইউনূস-ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা।
- ইউনূসের গ্রামীণ কমিউনিকেশনস-এর সাবেক কর্মীদের মধ্যে থেকে গোপনে অনুগত কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
🛡️ জাতীয় নিরাপত্তা ও জরুরি প্রতিরোধ পদক্ষেপের আহ্বান
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল একটি আইনশৃঙ্খলা বিষয় নয়—এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনগণের জান-মাল এবং সাংবিধানিক শৃঙ্খলা রক্ষায় এখনই সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনকে সম্মিলিত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সরকারের প্রতি জোরালো দাবি উঠেছে:
- এই মিলিশিয়া বাহিনীকে নিরস্ত্র করতে হবে
- তাদের অর্থায়নকারী নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলতে হবে
- জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী চক্রান্তের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে
এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে: বাংলাদেশ বাঁচবে, না কি ষড়যন্ত্রকারীরা জয়ী হবে?
বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন, যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে দেশ এক ভয়াবহ সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হতে পারে।
