২০২৪-২০২৫ সেশনে শেনজেনভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশিদের ২১ হাজারের বেশি ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। জানুন এই ভিসা রিজেকশনের কারণ, প্রভাব ও করণীয় বিশ্লেষণ।

বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে ভিসা পাওয়া যেন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে মুক্ত যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া এই ভিসা ব্যবস্থা বাংলাদেশিদের মধ্যে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও, পরিসংখ্যান বলছে—বেশিরভাগ আবেদনই গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই থমকে যাচ্ছে।
শেনজেন ভিসা ইনফোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৩৯,৩৪৫টি শেনজেন ভিসা আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ২০,৯৫৭টি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, যা মোট আবেদনের ৫৪.৯০ শতাংশ। ২০২৩ সালে যেখানে প্রত্যাখ্যানের হার ছিল ৪২.৮ শতাংশ, সেখানে এক বছরে এই হার এক লাফে প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।
বিশ্বব্যাপী ভিসা প্রত্যাখ্যানের তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। প্রথমে রয়েছে আফ্রিকার ক্ষুদ্র দেশ কমোরোস এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান।
- বাংলাদেশিদের আবেদন সবচেয়ে বেশি প্রত্যাখ্যান করেছে সুইডেন।
- পাকিস্তানিদের ক্ষেত্রে ছিল অস্ট্রিয়া।
- কমোরোসের নাগরিকদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর ছিল ফ্রান্স।
এই তথ্যগুলো একটি বৈশ্বিক প্রবণতার আভাস দেয়—বিভিন্ন দেশের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এখন অনেক বেশি কঠোর হয়ে উঠছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে এই উচ্চ প্রত্যাখ্যান হারের কারণ কী?
১. অনিয়মিত মাইগ্রেশনের শঙ্কা
অনেক ইউরোপীয় দেশ মনে করে, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের একটি অংশ ইউরোপে পা দিয়ে বৈধ থাকার সময় শেষ হওয়ার পরও ফিরে আসে না। ফলে, প্রত্যাখ্যানের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসে “পোটেনশিয়াল ইলিগ্যাল মাইগ্রেশন”।
২. ভুয়া ও অসম্পূর্ণ ডকুমেন্টেশন
অনেক আবেদনকারী যথাযথ আর্থিক প্রমাণ, কর্মসংস্থানের তথ্য বা ভ্রমণের উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হন। এতে করে দূতাবাসগুলোর সন্দেহ বাড়ে।
৩. রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব
যদিও ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের ভিসা নীতিকে "অরাজনৈতিক" বলেই দাবি করে, তবুও বলা চলে—রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা, মানবাধিকার পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতার অভাবও এই হার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
✅ আন্তর্জাতিক ইমেজ উন্নয়ন: বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়তে হবে।
✅ আবেদনকারীদের প্রশিক্ষণ: সঠিক ও পেশাদার ডকুমেন্ট প্রস্তুতির জন্য সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা দরকার।
✅ ডিপ্লোম্যাটিক এনগেজমেন্ট: ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ভিসা সহজীকরণ বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনার দরকার আছে।
✅ অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ: ভিসার অপব্যবহার রোধে অভ্যন্তরীণ সচেতনতা এবং কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
শেনজেন ভিসা প্রত্যাখ্যানের এই পরিসংখ্যান শুধুই একটি সংখ্যাগত হিসাব নয়; এটি একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের আস্থার পরিমাপক। সরকার, অভিভাবক সংস্থা ও সাধারণ নাগরিক—সবারই সম্মিলিত উদ্যোগেই কেবল এই চিত্র পাল্টানো সম্ভব।
