নুরুল হক নুরের পুলিশের বিরুদ্ধে ‘ব্রিজে ঝুলিয়ে দেওয়া’র হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক ভাষার সীমা নিয়ে বিশ্লেষণ।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তাপের নতুন অনুঘটক হয়ে এসেছে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের সাম্প্রতিক বক্তব্য। ২২ মে যাত্রাবাড়ীতে এক গণসমাবেশে তিনি বলেন, “এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুলিশ আমাদের গায়ে হাত দিলে ঐ হাত আর আস্ত রাখব না।” এমনকি তিনি অতীতের এক ঘটনার উল্লেখ করে হুমকি দেন,
“যাত্রাবাড়ীতে যেমনভাবে জনতা পুলিশকে মেরে ব্রিজে ঝুলিয়ে রেখেছিল, এই গণঅধিকার পরিষদের কোনো নেতাকর্মীর গায়ে হাত তোলা হলে ঐভাবে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।”
এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ২৪ মে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা একে ‘ফৌজদারি অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছে, এটি একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি হুমকি এবং পুলিশ বাহিনীর মনোবল ভাঙার অপচেষ্টা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ পুলিশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর অন্যতম স্তম্ভ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনী সর্বদা সক্রিয় প্রহরী হিসেবে কাজ করছে। নুরের বক্তব্য শিষ্টাচারবহির্ভূত, হুমকিস্বরূপ এবং আইনত দণ্ডনীয়।”
তারা আরও উল্লেখ করেছে, ৫ আগস্ট ২০২৩-এর পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করতে পুলিশ বাহিনী যে পরিমাণ ত্যাগ ও পরিশ্রম করেছে, তার বিপরীতে এমন বক্তব্য বাহিনীর মনোবলে আঘাত হানতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ পুলিশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর অন্যতম স্তম্ভ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনী সর্বদা সক্রিয় প্রহরী হিসেবে কাজ করছে। নুরের বক্তব্য শিষ্টাচারবহির্ভূত, হুমকিস্বরূপ এবং আইনত দণ্ডনীয়।”
তারা আরও উল্লেখ করেছে, ৫ আগস্ট ২০২৩-এর পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করতে পুলিশ বাহিনী যে পরিমাণ ত্যাগ ও পরিশ্রম করেছে, তার বিপরীতে এমন বক্তব্য বাহিনীর মনোবলে আঘাত হানতে পারে।
নুরুল হক নুর ২০১৮ সালে ডাকসু ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গঠনের চেষ্টা করে চলেছেন। তবে তার বক্তব্য ও কৌশল বারবার বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে তিনি নতুন প্রজন্মের পক্ষে কথা বললেও, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকি তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বাংলাদেশ বর্তমানে একটি উত্তাল রাজনৈতিক সময়ে রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন দল মাঠে সক্রিয়, বিতর্ক বাড়ছে রাষ্ট্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়েও। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দায়িত্ব আরও বেশি। যদি নেতৃত্বই হুমকির ভাষায় কথা বলেন, তবে সেটা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য অনুযায়ী, “এ ধরনের বক্তব্য জনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করে এবং সামাজিক বিদ্বেষ তৈরি করে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে সহিংস উস্কানি কখনোই কাম্য নয়।”
ভিপি নুরের বক্তব্য রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার দলের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা হলেও, রাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রতি প্রকাশ্য হুমকি আইনত, নৈতিকভাবে এবং কৌশলগত দিক থেকে আত্মঘাতী হতে পারে। এ ধরণের বক্তব্য শুধু পুলিশেরই নয়, পুরো রাষ্ট্র কাঠামোর প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে অনাকাঙ্ক্ষিত।
বাংলাদেশের রাজনীতিকে যদি সত্যিই সহনশীল এবং প্রগতিশীল পথে পরিচালনা করতে হয়, তাহলে এমন উগ্র বক্তব্য নয়—গঠনমূলক সমালোচনাই হতে হবে প্রতিবাদের পথ।
