ডেভিড বার্গম্যান আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলার প্রবণতাকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বৈধতা রচনার কৌশল হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বাস্তবতা ও অতিরঞ্জনের ব্যবধান।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান সম্প্রতি এক টুইটে এমন এক বক্তব্য রেখেছেন, যা বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে নিয়ে প্রচলিত একটি প্রোপাগান্ডাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বার্গম্যান মনে করেন, আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বা শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরশাসক’ বলা শুধু অতিরঞ্জিতই নয়, বরং রাজনৈতিক নিপীড়নের প্রেক্ষাপটকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে।
‘ফ্যাসিস্ট’ ট্যাগ- বাস্তবতা না কি রাজনৈতিক লেবেলিং?
ডেভিড বার্গম্যান সরাসরি বলেন, আওয়ামী লীগকে ‘নাৎসি’ বা ‘ফ্যাসিস্ট’ বলা রাজনৈতিক দমন-পীড়নের নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে। এমন শব্দ ব্যবহার মূলত কোনো দলের অস্তিত্ব অস্বীকার করার মত রাজনৈতিক মঞ্চ প্রস্তুত করে। এতে গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি—বাকস্বাধীনতা, মতের ভিন্নতা ও বিরোধীদলীয় অবস্থান—ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বার্গম্যান উল্লেখ করেছেন, আওয়ামী লীগের শাসন যদি কর্তৃত্ববাদী হয়, তবে তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেরই একটি ধারাবাহিক রূপ। বিএনপির শাসনকালেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং মিডিয়ার ওপর চাপ ছিল, যা অধিকার-এর তথ্য দিয়ে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বার্গম্যান মনে করিয়ে দেন, কেউ তখন বিএনপিকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলেনি। তাই বর্তমানে আওয়ামী লীগকে এই ধরনের শব্দে চিহ্নিত করাও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একরৈখিক বিশ্লেষণ।
তিনি আরও বলেন, যদি ২০০৮ সালে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ না করত, তবে বিএনপি নিশ্চিতভাবেই কারচুপি করত। এই পর্যবেক্ষণ বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার মূলসূত্র খোঁজার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতালোভ একটি চিরায়ত সমস্যা।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতা- বিচ্ছিন্ন না ধারাবাহিকতা?
বার্গম্যান স্বীকার করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে যা ঘটেছে তা ছিল সহিংস ও নৃশংস। তবে তাতেও আওয়ামী লীগকে ‘নাৎসি’ বা ‘ফ্যাসিস্ট’ বলা সংগত নয়। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা, যা ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক উত্তেজনারই বহিঃপ্রকাশ।
স্বৈরাচার বনাম কঠোর প্রশাসন- শেখ হাসিনা কী সত্যিই স্বৈরশাসক?
বার্গম্যানের ভাষায়, শেখ হাসিনা যদি সত্যিকারের স্বৈরশাসক হতেন, তাহলে স্বাধীন সংবাদপত্র যেমন ‘প্রথম আলো’, ‘ডেইলি স্টার’ কিংবা ‘নিউ এজ’ এখনো টিকে থাকত না। বিএনপি কিংবা জামায়াতের মতো দলগুলোকেও হয়ত নিষিদ্ধ করা হতো। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
বার্গম্যান জোর দিয়ে বলেন, সত্যের ভিত্তিতে ভাষার ব্যবহার রাজনৈতিক ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার প্রধান মাধ্যম। বিপরীতে, উত্তেজনাপূর্ণ শব্দ প্রয়োগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সঠিক শব্দ নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকাশে অপরিহার্য।
