ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ নাহিদ ইসলাম ও ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিস্ফোরক বক্তব্য সেনাবাহিনীকে কেন্দ্র করে দেশে প্রোপাগান্ডার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি পরিকল্পিতভাবে বিভাজন তৈরির প্রচেষ্টা।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সেনাবাহিনী-বিরোধী ধারাবাহিক মন্তব্য ও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ যে ধরণের মন্তব্য করেছেন, তা সরাসরি সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত ও রাজনীতির প্রতিপক্ষ হিসেবে চিত্রিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিকল্পিত ‘অপরাজনৈতিক’ প্রচার?
গত কয়েকদিনে বিভিন্ন ফোরামে ও সামাজিক মাধ্যমে ফুয়াদ ও নাহিদ ইসলাম যে সব মন্তব্য করেছেন, সেগুলো একই কৌশলের অংশ বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেছেন, সেনাবাহিনী ড. ইউনূসকে ক্যু করতে চায় এবং সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান রাজনৈতিক ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন যা ‘ক্যু’-এর ইঙ্গিত বহন করে। শুধু তাই নয়, তিনি সেনাবাহিনীকে ‘দেশপ্রেমহীন’ আখ্যা দিয়ে বলেন—“আপনারা হঠাৎ করে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী হয়ে গেলেন?”
এ ধরনের বক্তব্যে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্য রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ভারত ও ‘ঘোড়া উপহারের’ ইস্যু টেনে সেনাবাহিনীকে অপমান
ফুয়াদ আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের সামরিক কর্মকর্তারা দিল্লি থেকে ঘোড়া উপহার নিয়ে এসেছেন এবং সেই সময় কাউকে কথা বলতে শোনা যায়নি। এসব মন্তব্য সেনাবাহিনীর বিদেশনীতি বা কূটনৈতিক সম্পর্ককেও অশালীনভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাহিদের ‘জুরিসডিকশন’ তত্ত্ব ও সেনা-হস্তক্ষেপ বিরোধিতা
নাহিদ ইসলাম বলেন, “সেনাবাহিনীর রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের এখতিয়ার নেই।” সেনাপ্রধানের নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য দেওয়াকে তিনি ‘অসাংবিধানিক হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে একইসাথে নাহিদ ও তাঁর দলের সদস্যরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন।
বিতর্কিত সমন্বয়: রাজনীতি বনাম সামরিক শৃঙ্খলা
তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের অন্তর্বর্তী সরকারের গঠনের পর একাধিকবার সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন ইউনূস ঘনিষ্ঠরা। কিন্তু ১১ মার্চের বৈঠক নিয়ে তারা ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’ প্রশ্ন তুলছেন—এটিকে ‘রাজনৈতিক সুবিধাবাদ’ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তৈয়্যবের দ্বিমুখী বার্তা
ড. ইউনূসের ICT বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “সেনাবাহিনী রাজনীতিতে নাক গলাতে পারবে না।” একই পোস্টে আবার তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী আমাদের গর্ব ও আস্থার জায়গা”।
এই বিপরীতধর্মী বার্তা জনমানসে বিভ্রান্তি তৈরি করছে, এবং একে ‘নীতি ও নৈতিকতার দ্বিচারিতা’ বলেই উল্লেখ করছেন রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা।
বিশ্লেষণ: উদ্দেশ্য কী?
এই ধারাবাহিক বক্তব্য ও ফেসবুক প্রচারকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তিনভাবে ব্যাখ্যা করছেন:
- প্রথমত, সেনাবাহিনীর ওপর কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করে তাদের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
- দ্বিতীয়ত, অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘জনগণের সরকার’ হিসেবে তুলে ধরার জন্য সেনাবাহিনীকে ‘বিরোধী শক্তি’ হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে।
- তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিকভাবে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি দুর্বল করার একটি প্রোপাগান্ডা হিসেবে এই বক্তব্যগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন প্রচার কেবল রাজনৈতিক বিভক্তিই বাড়ায় না, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ড. ইউনূস ঘনিষ্ঠদের সেনাবাহিনী-বিরোধী ধারাবাহিক বক্তব্য এখন কেবল বিতর্ক নয়, রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। কোনো দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে এমন অপতথ্য ছড়ানো রাজনৈতিক সincerity-এর অভাব এবং সংঘাতময় রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়।
