অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে আসার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তরে গড়ে তুলেছেন ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য, নিয়োগ দিয়েছেন আত্মীয়-স্বজন ও বিদেশি নাগরিকদের। এটি কি বাংলাদেশে ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’-এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ?
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকেই একের পর এক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মূলত ৮ আগস্ট ২০২৪ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তার সরকার রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও ঘনিষ্ঠজনদের প্রাধান্য দিয়ে যেভাবে শাসন কাঠামো পুনর্গঠন করেছে, তা নজিরবিহীন।
অর্থনীতি ধ্বংস, গ্রামীণ সাম্রাজ্য বিস্তার
বর্তমান সরকারের শাসনামলে দেশের অর্থনীতি পৌঁছেছে চরম বিপর্যয়ের মুখে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমেছে, বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে, কর্মহীন হয়েছেন লাখো শ্রমিক। অথচ একই সময়ে ড. ইউনূসের মালিকানাধীন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পেয়েছে অভাবনীয় ছাড়, অনুমোদন এবং কর মওকুফ। গ্রামীণ ব্যাংক, গ্রামীণ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান পেয়ে গেছে এমন সব সুবিধা যা পূর্বে কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থা এমনকি জাতীয় পর্যায়ের কোম্পানিও পায়নি।
বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ ও মামলার অবসান
ক্ষমতা গ্রহণের ঠিক একদিন আগেই শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ড. ইউনূসের সাজা বাতিল হয়। এরপর একে একে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং মামলা, কর সংক্রান্ত রায়সহ সব কিছুই রহস্যজনকভাবে বন্ধ বা প্রত্যাহার করা হয়। এতে প্রশ্ন উঠে, বিচার ব্যবস্থা কি স্বাধীন, নাকি তা ইউনূসের শাসনের প্রভাবাধীন?
রাষ্ট্রযন্ত্রে আত্মীয় ও বিদেশিদের ছড়াছড়ি
সবচেয়ে গুরুতর দিক হলো—রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের আত্মীয়স্বজন এবং বিদেশি নাগরিকদের বসানো। কেবল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় নয়, বিনিয়োগ বোর্ড, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সড়ক ও সেতু বিভাগ, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, এমনকি কূটনৈতিক মিশনেও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও ডাচ নাগরিকরা স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। এটা একদিকে যেমন নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি করে, অন্যদিকে এটি দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’-এর উজ্জ্বল উদাহরণ
ড. ইউনূস একদিকে দেশের নীতিনির্ধারক, অন্যদিকে নিজেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসার মালিক বা অংশীদার—এমন একটি বাস্তবতা তৈরি হয়েছে যা ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’-এর সর্বোচ্চ রূপ। এ ধরনের দ্বৈত ভূমিকা বিশ্বের কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য নয়।
রাষ্ট্র না ব্যক্তিগত কোম্পানি?
এই পরিস্থিতি আমাদের একটি কঠিন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়—বাংলাদেশ কি এখন একটি রাষ্ট্র, না কি ‘গ্রামীণ প্রাইভেট লিমিটেড’? যখন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগুলো ব্যক্তি বা তার প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ব্যবহৃত হয়, তখন জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং রাষ্ট্রে গভীর আস্থার সংকট তৈরি হয়।
ড. ইউনূস তার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক শক্তিকে একীভূত করে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন তা শুধু অনৈতিক নয়, তা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের কাঠামোর উপর সরাসরি আঘাত। এখন দেখার বিষয়, জনগণ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়—নীরবতা নাকি প্রতিরোধ?
