ড. ইউনূসের পদত্যাগের গুঞ্জনের পরই জামায়াত, এনসিপি ও হিজবুত তাহেরীর মতো মৌলবাদী গোষ্ঠী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি কি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান অস্থিরতার নতুন রূপ নিতে যাচ্ছে আরও ভয়ঙ্কর মোড়। সেনাবাহিনীর একাধিক উচ্চপর্যায়ের বার্তার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একপ্রকার পিছু হটেছেন এবং পদত্যাগের চিন্তা করছেন—এমনটাই জানা যাচ্ছে নির্ভরযোগ্য সূত্রে।
তবে এই সংকেতই যেন নতুন করে প্রাণ জুগিয়েছে ইসলামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে। জামায়াত ইসলামি, এনসিপি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত হিজবুত তাহেরী—এদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিভাজন ভুলে তারা এখন ঐক্যবদ্ধভাবে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একপ্রকার “শক্তি প্রদর্শনের” ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।
ইউনূসের চারপাশে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের ঢাল তৈরি
গত রাত থেকেই রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় একাধিক গোপন বৈঠক হয়েছে মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে। জানা গেছে, ইউনূসের পদ থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা সামনে আসতেই তারা সিদ্ধান্ত নেয় তাকে ঘিরে একটি প্রতিরক্ষামূলক রাজনৈতিক ফ্রন্ট গঠনের। যার উদ্দেশ্য শুধু তাকে রক্ষা নয়, বরং সেনাবাহিনীর প্রতি একধরনের চাপ সৃষ্টি করা।
এটি রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ বার্তা—যেখানে একটি অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বকে রক্ষা করতে দেশের শত্রু হিসেবেই পরিচিত চরমপন্থীরা সেনাবাহিনীর বিপরীতে দাঁড়ানোর সাহস পাচ্ছে।
বিএনপি এখনও দ্বিধান্বিত, ১৪ দল দৃঢ় অবস্থানে
এই জোটের সঙ্গে বিএনপিকে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে, যদিও দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দেয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি এমন অবস্থায় সরাসরি যুক্ত হলে সেটি তাদের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাসদসহ ১৪ দলীয় জোট রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে একটি বড় গণসমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সমাবেশ হতে পারে ড. ইউনূস সরকারের অবসানের প্রাক-মঞ্চ, যা আবারও রাজনীতির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারে।
জাতীয় নিরাপত্তার সরাসরি হুমকি
ড. ইউনূসকে ঘিরে মৌলবাদীদের নতুন করে সক্রিয়তা এবং তাদের সেনাবাহিনীর বিপরীতে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
এখনই প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা, গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সর্বস্তরে রাজনৈতিক ঐক্য। চরমপন্থীদের প্রভাব যদি রাষ্ট্রযন্ত্রে ঢুকে পড়ে, তবে তা বাংলাদেশের জন্য হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয়ের কারণ।
সময় এখন সিদ্ধান্তের
যেখানে রাষ্ট্রের সামরিক এবং অসামরিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে চরমপন্থী জোটের মাধ্যমে, সেখানে নীরবতা বা দোদুল্যমানতা চলতে পারে না। সময় এসেছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের, যা দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করবে।
