ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথ না হওয়ায় লাগাতার আন্দোলন করছে কর্মচারী ইউনিয়ন ও সমর্থকরা। গত ১০ দিন ধরে নগর ভবনের কার্যক্রম বন্ধ। বিস্তারিত পড়ুন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে শপথ পড়িয়ে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় অচল হয়ে পড়েছে নগর ভবনের কার্যক্রম। বিগত ১০ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতি পালন করছেন কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্যরা এবং ইশরাকের সমর্থকরা।
সকাল থেকে নগর ভবনের মূল প্রবেশপথে তালা ঝুলতে দেখা যায়। সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের ফিরে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স সংশোধনের মতো জরুরি সেবাগুলো বন্ধ রয়েছে।
⚖️ আইনি পটভূমি:
২০২০ সালের নির্বাচনে প্রশ্নবিদ্ধ ফলাফলের বিরুদ্ধে মামলায় আদালত সম্প্রতি রায় দেয় যে, ইশরাক হোসেন বৈধ মেয়র। ২৭ মার্চ ২০২৫ তারিখে ট্রাইব্যুনাল শেখ ফজলে নূর তাপসের জয় বাতিল করে ইশরাককে বৈধ ঘোষণা করে। নির্বাচন কমিশন ২৭ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করলেও শপথ আয়োজন থেকে বিরত রয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
🗣️ আন্দোলনকারীদের বক্তব্য:
আন্দোলনে অংশ নেওয়া একজন কর্মচারী বলেন, “ইশরাক মেয়রের চেয়ারে বসলেই আমরা বাড়ি ফিরব।”
আরেকজন বলেন, “আমরা দোষী নই, শপথ না পড়ানোর কারণেই মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।”
👨⚖️ আইনি প্রতিবন্ধকতা:
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মামুনুর রশিদ শপথ স্থগিতের রিট করলে হাইকোর্ট সেটি খারিজ করে দেয়। এরপরও মন্ত্রণালয় এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
সেবার সংকট:
নগর ভবনের অন্তত ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কাজ বন্ধ। এতে নাগরিক ভোগান্তি চরমে। বিশেষ করে জন্ম নিবন্ধন ও স্যানিটেশন বিভাগের কাজে স্থবিরতা দেখা গেছে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ:
এ আন্দোলন শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং এর গভীরে রয়েছে রাজনৈতিক প্রতীকায়নও। ঢাকার কেন্দ্রস্থলে আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে তা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
আইনগত বৈধতা পাওয়ার পরেও শপথ নিতে না পারা ইশরাক হোসেনের ইস্যু শুধু একজন মেয়রের দায়িত্ব বুঝে নেওয়া নয়, এটি হয়ে উঠেছে প্রশাসন ও রাজনীতির মধ্যকার শক্তির লড়াইয়ের প্রতীক। যত দ্রুত এই জটিলতার সমাধান হবে, ততই স্বস্তি ফিরে আসবে ঢাকাবাসীর জীবনে।
