ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে জামায়াত, এনসিপির গভীর সম্পর্ক বিএনপির জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরেকটি গভীর ষড়যন্ত্রের চিত্র এখন আরও স্পষ্ট। একটি পক্ষ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেই থামেনি, এবার বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার কৌশল হাতে নিচ্ছে। নেতৃত্বে আছেন অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার চারপাশে গড়ে ওঠা জামায়াত-শিবির, এনসিপি, এবি পার্টি প্রমুখ গোষ্ঠী।
‘মাইনাস টু’ ষড়যন্ত্রের দ্বিতীয় অধ্যায়?
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনার সময় থেকেই এই গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। তখনও অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন, বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ‘মাইনাস টু’ রাজনীতি—যেখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে একযোগে রাজনীতি থেকে ছেঁটে ফেলার চেষ্টা চলবে।
আজকের বাস্তবতায় তা আর কেবল আশঙ্কা নয়—বাস্তব ষড়যন্ত্র।
বিএনপির রাজনীতিকে নিষিদ্ধের দাবি উঠলো জামায়াতের পক্ষ থেকে
যেই মুহূর্তে সরকার-স্পন্সরকৃত এনসিপি আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলো, ঠিক তখনই জামায়াত-শিবিরের একটি অংশ সরাসরি বিএনপিকেও নিষিদ্ধ করার দাবি তোলে। এরপর থেকেই ইউনূস সরকারের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের টানাপড়েন বাড়তে থাকে।
তথ্য মতে, একাধিকবার সাক্ষাতের চেষ্টার পরও ড. ইউনূসের সঙ্গে দেখা পাননি বিএনপি নেতারা। এর বিপরীতে জামায়াত নেতারা খোলামেলাভাবেই সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছেন এবং আজ ২৪ মে তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
বৈঠকে থাকছে বিএনপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হামলার রূপরেখা
এই বৈঠক কেবল একটি আলোচনার সভা নয়; বরং বিএনপিকে ঘায়েল করতে একটি সমন্বিত ‘মব কৌশল’-এর রূপরেখা চূড়ান্ত হবে বলেই জানা গেছে। এতে জামায়াত-শিবির, এনসিপি, এবি পার্টি ও অন্যান্য ইউনূসপন্থী গোষ্ঠীগুলো যুক্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকার একাধিক এলাকায় চরমপন্থী কর্মীদের সক্রিয়তা বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ সরাসরি দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে।
বিএনপির নেতাদের টার্গেটেড হয়রানি শুরু
বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে নির্বাচনে বাধা দিতে সরকারঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও রিজওয়ানা হাসান ব্যক্তিগতভাবে সক্রিয় হয়েছেন। প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও দমনপীড়ন চালানোর পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন হচ্ছে।
গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে
এই পরিকল্পনার শেষ লক্ষ্য হলো — বিএনপিকে সরিয়ে দিয়ে এনসিপিকে বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এতে ড. ইউনূসপন্থী গোষ্ঠী ও জামায়াত একাট্টা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর এবার বিএনপিকে কোণঠাসা করা হলে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হবে।
যেখানে গণতন্ত্রের দুই মূল ধারাকে ধ্বংস করে একটি ‘ছায়া রাজনৈতিক বলয়’ তৈরি করার ষড়যন্ত্র চলছে, সেখানে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক শক্তির সম্মিলিত প্রতিরোধ। অন্যথায় ‘মাইনাস টু’ এর পথ বেয়ে বাংলাদেশে ‘মাইনাস গণতন্ত্র’ বাস্তব রূপ নিতে পারে।
