যশোরে ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম রাফার বিরুদ্ধে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তরুণীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ ও ৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিস্তারিত পড়ুন বিশ্লেষণধর্মী এই রিপোর্টে।

যশোর জেলা ছাত্রদলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রাফার বিরুদ্ধে একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের করেছেন কুমিল্লার বাসিন্দা মাহিনুর আক্তার মাহি। তিনি দাবি করেছেন, প্রেমের সম্পর্কের আড়ালে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে যৌন নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল ও একাধিক কিস্তিতে মোট ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন রাফা।
ঘটনার সূচনা ফেসবুকভিত্তিক সম্পর্ক থেকে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহির সঙ্গে পরিচয় হয় ছাত্রদল নেতা রাফার। এরপর সম্পর্ক গভীর হলে রাফা তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখান এবং একপর্যায়ে যশোরে আসার জন্য আহ্বান করেন। মাহি সরল বিশ্বাসে গত বছরের ৫ অক্টোবর যশোরে এসে রাফার সাথে দেখা করেন।
এজাহার অনুযায়ী, রাফা মাহিকে যশোর আইটি পার্কের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে নিয়ে যান এবং সন্ধ্যায় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। শুধু তাই নয়, সেই সময় সুকৌশলে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে এসব ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন।
মাহি জানান, ভিডিও ফাঁসের ভয়ে প্রথমে ২ লাখ টাকা ইসলামী ব্যাংকের যশোর শাখার একটি অ্যাকাউন্টে পাঠান। এরপর বিকাশ এবং সরাসরি নগদ—এই তিন পন্থায় আরও প্রায় ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেন তিনি।
২০২৫ সালের ২৩ মে মাহি তার বান্ধবীকে নিয়ে রাফার যশোরের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলেন। রাফার বাবা-মা সম্পর্ক মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও, রাফা নিজে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। তিনি বন্ধুবান্ধব দিয়ে ফোনে হুমকি দেন এবং মাহিকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম রাফা বলেন, “ওই মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো ঠিকই, কিন্তু কোনো অন্তরঙ্গ মুহূর্ত বা অর্থ লেনদেন হয়নি। সে অন্য একটি ছেলের সাথে সম্পর্ক করছে, আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতেই এই অপচেষ্টা চলছে।”
এই বক্তব্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত থাকলেও প্রশ্ন থেকে যায়—ভুক্তভোগী তরুণী যে বিস্তারিতভাবে টাকার পরিমাণ, লেনদেনের মাধ্যম ও সময় উল্লেখ করেছেন, তা কি নিছক কল্পনা?
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবুল হাসনাত জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এদিকে ঘটনাটি যশোরে এবং জাতীয় পর্যায়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
এই ঘটনা শুধু একজন তরুণীর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক সংকেতও বটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠা এবং পরে তা ব্ল্যাকমেইলের হাতিয়ার হওয়া এখন এক ভয়াবহ বাস্তবতা।
রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে কেউ যদি নারীর সম্মান ও অর্থ লুটে নেয়, তা হলে সেটি শুধু অপরাধ নয়, সমাজ ও রাজনীতির জন্য গভীর হুমকিও বটে।
তদন্ত সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে নারী সুরক্ষার প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা প্রমাণ করা সম্ভব হবে।
