পিনাকী ভট্টাচার্যের মতে, “আওয়ামী লীগ আসলেই ভয়ংকরভাবে ফিরে আসছে”—এই মন্তব্যের পেছনে কী রাজনৈতিক বাস্তবতা আছে? ইউনুস, বিএনপি ও অতীত রাজনীতির আলোকে বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

ব্লগার, রাজনৈতিক অ্যাকটিভিস্ট ও লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ২৬ মে (সোমবার) একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন—“আওয়ামী লীগ আসলেই ভয়ংকরভাবে ফিরে আসছে”। এই বক্তব্যটিকে কেবল রাজনৈতিক হতাশা কিংবা বিরোধী পক্ষের আবেগী প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি বর্তমান বাংলাদেশি রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি প্রতিচ্ছবি।
পিনাকীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকার ৫ আগস্টের চেয়েও শক্তিশালী রূপে ফিরে এসেছে। এর আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেছেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস, ইউনুস-সমর্থক দেশি-বিদেশি মহল, এবং কিছু প্রবাসী ইউটিউবার। মূলত, যাদেরকে তিনি "ইউনুস সরকারের পাশে দাড়ানো শক্তি" বলে আখ্যা দিয়েছেন।
রাজনৈতিক টার্ম হিসেবে "ভয়ংকরভাবে ফিরে আসা" মানে হতে পারে—নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ, রাষ্ট্রযন্ত্রের পূর্ণ ব্যবহার, প্রতিপক্ষের কণ্ঠ রোধ এবং মত প্রকাশের ক্ষেত্র সংকোচন। পিনাকী তার স্ট্যাটাসে এই বার্তাটিই দিয়েছেন—আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর যেন এক নতুন রাজনৈতিক পরাক্রম নিয়ে ফিরেছে, যেখানে কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং একপ্রকার আইডিওলজিক্যাল যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস বর্তমানে ক্ষমতার বাইরে থেকেও একটি প্রতীকী শক্তি হয়ে উঠেছেন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় মামলাগুলি এবং তাকে ঘিরে রাষ্ট্র-সমর্থিত অপপ্রচারের অভিযোগ বহুদিন ধরে আলোচনায়।
পিনাকীর বক্তব্যে এই প্রতিরোধকে “যুদ্ধ পরিস্থিতি” বলা হয়েছে—এবং সেই যুদ্ধ শুধু দেশে নয়, বিদেশেও প্রসারিত।
এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি সত্যিকার অর্থে একটি রাজনৈতিক ‘ক্যামব্যাক’, নাকি ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় পুরনো রণকৌশলের আধুনিক রূপায়ণ?
পিনাকী ভট্টাচার্য খুব কৌশলে বিএনপির ভূমিকারও সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই “আওয়ামীবান্ধব রাজনীতির” কারণে বিএনপি প্রথমে কর্মী হারাবে, পরে হারাবে বিশ্বাসযোগ্যতা। এই মন্তব্যে ইঙ্গিত আছে যে, বিরোধী শক্তি হিসেবে বিএনপি বর্তমানে কার্যকর না থেকে একটি প্রতিক্রিয়াহীন শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
পিনাকী অতীত উদাহরণ টেনে এনেছেন—মুসলিম লীগ, ন্যাপ বা ভাসানীর দলগুলো শুরুতে কতটা শক্তিশালী ছিলো, কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি। ইতিহাসের এই পাঠ আমাদের বলে—রাজনৈতিক শক্তির স্থায়িত্ব নির্ভর করে জনগণের উপর, কেবল রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের উপর নয়।
আওয়ামী লীগের “ভয়ংকর প্রত্যাবর্তন” যদি সত্য হয়, তবে সেটি শুধু রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নয়—বরং প্রতিপক্ষ নির্মূলের একপ্রকার ঘোষণাও। আর সেই বাস্তবতায় প্রফেসর ইউনুস হয়ে উঠছেন রাজনৈতিক প্রতিরোধের প্রতীক। পিনাকী ভট্টাচার্যের এই বার্তা তাই নিছক অভিযোগ নয়, বরং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার একটি চিহ্নও হতে পারে।
