কালো আইন পাশের প্রতিবাদে সচিবালয়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ। ইউনুস সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করে সচিব, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবরুদ্ধ করেছেন সচিবালয়। পুরো ভবন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, বন্ধ সব কার্যক্রম।
সচিবালয়ে নজিরবিহীন অবরোধ: কালো আইনের বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের শাটডাউন, ‘ভুয়া ভুয়া ইউনুস’ স্লোগান
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে ঘটেছে অভূতপূর্ব এক ঘটনা। ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে ‘অবৈধ কালো আইন’ পাশ করার প্রতিবাদে সচিবালয়ের সচিব, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন।
সচিবালয়ের বিভিন্ন কক্ষ থেকে কর্মচারীরা একযোগে বেরিয়ে এসে স্লোগানে মুখরিত করেন পুরো প্রশাসনিক ভবন। তারা সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’, ‘দখলদার’, এবং ‘সুদারু ইউনুস সরকার’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন— “এই আইন জনগণের নয়, মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় করা হয়েছে।”
অবরোধ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন: এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক বিদ্রোহ
সচিবালয়ের কর্মকর্তারা প্রথমে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, এবং ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পুরো ভবন শাটডাউন করে দেন। প্রশাসনিক ইতিহাসে এটিই প্রথমবারের মতো এমন এক অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ যেখানে প্রশাসনিক কর্মকর্তারাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরকারি কাঠামোকে অচল করে দিয়েছেন।
প্রতিবাদকারীরা বলেন, “আমরা দেশের মানুষ। অন্য দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কালো আইন তৈরি হলে আমরা তা মানি না। ইউনুস অবৈধ, আইন অবৈধ, এবং সরকার অবৈধ।”
স্লোগান: ‘ভুয়া ভুয়া ইউনুস’
প্রতিবাদকারীরা ‘ভুয়া ভুয়া ইউনুস’, ‘ড. ইউনুস দেশদ্রোহী’, ‘অস্ত্রের দালাল চাই না’, ‘কালো আইন মানি না’— এমন বিভিন্ন স্লোগানে সচিবালয় প্রকম্পিত করে তুলেন। এক পর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হলেও কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ না করে পেছনে সরে যান।
আন্দোলনের মূল কারণ: ‘কালো আইন’ কী?
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আইনটির মাধ্যমে ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংহতি রক্ষার নামে’ জনগণের স্বাধীনতা, তথ্য অধিকার এবং সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। অনেকে এটিকে “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের চেয়েও ভয়ঙ্কর এবং চীন-পন্থী শাসনব্যবস্থার অনুকরণে তৈরি আইন” বলে অভিহিত করছেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব ও সম্ভাব্য পরিণতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সচিবালয়ের এই শাটডাউন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে— সরকারের প্রশাসনিক ভিতেই এখন আর স্থিতিশীলতা নেই। এটি ভবিষ্যতের আরও বড় অভ্যুত্থান বা প্রতিরোধ আন্দোলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষক রেজা সাঈদ বলেন, “যদি প্রশাসন একবার বিক্ষুব্ধ হয়, তার মানে হলো— সরকার নিজেই নিজের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। এটা গণজাগরণের সূচনা হতে পারে।”
