রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনের লিফট ছিঁড়ে পড়ে আহত হয়েছেন ৯ জন। লিফট ছিল দীর্ঘদিন নষ্ট, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অবহেলা নিয়ে বিস্তৃত বিশ্লেষণ।

রাজধানী ঢাকার বুকে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তার কথা যতই বলা হোক, বাস্তবতা আমাদের আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল বিডিবিএল ভবনের মর্মান্তিক লিফট দুর্ঘটনা। আজ ২৭ মে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত বিডিবিএল ভবনের একটি লিফট ছিঁড়ে ১৩ তলা থেকে পড়ে যায়। এতে আহত হন অন্তত ৯ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
১৮ তলা এই ভবনটি মূলত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (BDBBL) হলেও এখানে একাধিক সরকারি-বেসরকারি অফিস রয়েছে, যার মধ্যে বণিক বার্তা ও একাত্তর টেলিভিশনের অফিসও উল্লেখযোগ্য। ফলে এটি শুধু একটি সরকারি ভবন নয়, বরং একটি কর্মচঞ্চল কর্মস্থল—যেখানে প্রতিদিন শত শত কর্মজীবী মানুষ যাতায়াত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভবনের চারটি লিফটের মধ্যে তিনটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। বারবার মেরামতের দাবি জানানো হলেও, বিডিবিএল কর্তৃপক্ষ তা কার্যকর করেনি।
এমনকি ভবনের অন্যান্য অফিস থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হয়। কিন্তু প্রতিকারের পরিবর্তে দেখা যায় উদাসীনতা। আজকের এই দুর্ঘটনা যেন অব্যবস্থাপনার পূর্বাভাস দেওয়া একটি অনিবার্য ফলাফল।
ঘটনার পরপরই ভবনের অফিসকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বিডিবিএল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সূত্র জানায়, ঘটনার পর লিফট ও সংশ্লিষ্ট অফিস দ্রুত বন্ধ করে সরে পড়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিডিবিএল ভবনের এই ঘটনা ঢাকা শহরের আরও একটি ভয়াবহ নিরাপত্তাহীন নগর বাস্তবতার প্রতীক। লিফট নষ্ট থাকা সত্ত্বেও এত বড় একটি ভবন চলমান থাকা, কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করা, কিংবা ভবনের ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত না করায় সাধারণ নাগরিকের জীবন এখন রীতিমতো অনিশ্চয়তায়।
যদি সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তবে হয়তো এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। এমন একটি আধা-সরকারি ভবনে এমন বিপজ্জনক অব্যবস্থাপনা প্রশ্ন তোলে পুরো নগর ব্যবস্থাপনার প্রতি।
এখন প্রশ্ন উঠছে—এই দুর্ঘটনার দায় কে নেবে? কে দেবে ক্ষতিপূরণ আহতদের? কাদের ব্যর্থতায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলো?
ভবনের অন্যান্য অফিস ও সংবাদমাধ্যম কর্মীরা ইতোমধ্যে একটি স্বচ্ছ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।
এখন সময় এসেছে শুধু তদন্ত নয়, ভবন ব্যবস্থাপনায় একটি সার্বিক সংস্কারের। অন্যথায়, ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।
একটি উন্নয়নশীল দেশের রাজধানীতে এমন দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ব্যবস্থাপনা শুধু দুঃখজনক নয়, বরং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রতিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিডিবিএল ভবনের লিফট দুর্ঘটনা কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি একটি প্রতীক—দায়িত্বহীনতা, অবহেলা, আর জননিরাপত্তাকে তুচ্ছজ্ঞান করার প্রতীক।
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপই এখন সময়ের দাবি।
