সরকারি চাকরি (সংশোধিত) আইন ২০২৫ এর মাধ্যমে এনসিপি-জামাত সরকার সেনাপ্রধানকে সরানোর ষড়যন্ত্র করছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন বাদ, তদন্ত ছাড়াই চাকরিচ্যুতি—প্রশাসনে নেমেছে আতঙ্কের ছায়া।
ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এনসিপি-জামাত সরকারের সদ্য প্রস্তাবিত সরকারি চাকরি (সংশোধিত) অধ্যাদেশ-২০২৫ প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীতে তীব্র অস্থিরতা ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইন শুধুমাত্র স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা নিশ্চিত করতেই প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে সরকারের মূল লক্ষ্য দেশের বর্তমান সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দেওয়া।
আইনের চরম স্বেচ্ছাচারিতা: তদন্ত ছাড়াই চাকরিচ্যুতি
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য যদি সরকারের বিরুদ্ধ মত পোষণ করেন, তদন্ত ছাড়াই তাকে চাকরিচ্যুত করা যাবে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, এ সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের বাধ্যবাধকতাও বাতিল করা হয়েছে। এটি স্পষ্টভাবে সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।
৩ হাজার দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা চিহ্নিত: গোপন তালিকা তৈরি
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, সরকার ইতিমধ্যে ৩,০০০ কর্মকর্তার একটি গোপন তালিকা প্রস্তুত করেছে। এদের মধ্যে অধিকাংশ হলেন—
- দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা
- আমলারা, যারা সরকারের ষড়যন্ত্রমূলক নীতিতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন
- মিডিয়া ও বেসামরিক প্রশাসনের স্বাধীনচেতা কর্মকর্তা
এই তালিকার ভিত্তিতে সরকারের পরিকল্পনা— ধাপে ধাপে এই কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে আনুগত্যভিত্তিক একটি শাসন কাঠামো গড়ে তোলা।
সেনাপ্রধানকে সরানোর নীলনকশা
বিশ্লেষকদের মতে, এই অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্যই হল সেনাপ্রধান। জানা গেছে, তিনি করিডোর, বন্দর ও সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে জনগণের স্বার্থে অবস্থান নেওয়ায় তাকে ‘অবাধ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। তাকে সরাতে একাধিক মিথ্যা অভিযোগ তৈরি ও অভ্যন্তরীণ তদন্তের ছলচাতুরী চলছে।
প্রশাসনে নেমেছে শঙ্কা ও আতঙ্ক
এই আইন বাস্তবায়িত হলে—
- প্রশাসন থেকে স্বাধীনচেতা কর্মকর্তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে
- রাষ্ট্রপতি কার্যত নামমাত্র পদে পরিণত হবেন
- চাকরি হবে নিঃশর্ত আনুগত্যের পুরস্কার, মেধার কোনো মূল্য থাকবে না
- প্রশাসনের প্রতিটি দপ্তর চলবে গোপন তালিকার ইশারায়
একজন প্রশাসনিক বিশ্লেষক বলেন, “এই আইন কার্যকর হলে বাংলাদেশের প্রশাসন ও সেনাবাহিনী একনায়ক শাসনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে।”
জনগণের করণীয়: প্রতিরোধ না হলে রাষ্ট্র ধ্বংসের পথে
সচেতন নাগরিকদের মতে, এখনই এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে না তুললে রাষ্ট্রে আর কোনো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান টিকে থাকবে না। প্রশাসন হবে ভয়ভীতির কারখানা, সেনাবাহিনী চলবে সন্দেহ আর অনুগত্যের শর্তে, আর সংবিধান রয়ে যাবে কাগজের বইয়ে।
