গতকাল রাতে নাগরিক কমিটির তথাকথিত সমন্বয়ক সারজিস আলমের ঘোষণার পর এরশাদ ও জিএম কাদেরের বাসভবনে হামলা চালায় শিবিরের কর্মীরা। হামলায় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ঢাকা, ৩০ মে ২০২৫:
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তথাকথিত নাগরিক কমিটির ‘সমন্বয়ক’ হিসেবে পরিচিত সারজিস আলমের এক উসকানিমূলক ঘোষণার পর রাজধানীতে শুরু হয় রাজনৈতিক সহিংসতা। কিছুক্ষণের মধ্যেই শিবির-ঘনিষ্ঠ কর্মীরা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের পৃথক বাসভবনে হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা প্রথমে গুলশানের একটি বাড়ির গেট ভাঙচুর করে এবং পরে বাসভবনের ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও বহিরাঙ্গনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তি। দগ্ধ ব্যক্তিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
সারজিস আলম কী বলেছিলেন?
ঘটনার আগে একটি অনলাইন সম্প্রচারে সারজিস আলম দাবি করেন যে, “পুরনো রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নাগরিকদের হাতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ তুলে দিতে হবে।”
তার এ বক্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছিল সরাসরি উসকানিমূলক এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিক্রিয়া:
র্যাব ও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত ৭ জনকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে গুলশান থানা পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও হামলাকারীদের শনাক্তের কাজ চলছে।
জাতীয় পার্টির প্রতিক্রিয়া:
জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই হামলা পরিকল্পিত এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির ওপর আক্রমণ। সরকারের কাছে আমরা দ্রুত বিচার ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
