. ইউনূস দাবি করছেন, তিনি জাপানে এক লক্ষ শ্রমিক পাঠাবেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি একটি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক চুক্তি।
সম্প্রতি একটি দাবি সামাজিক ও প্রচারমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছে—ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাপানে এক লক্ষ শ্রমিক পাঠাচ্ছেন। এই ঘোষণাকে অনেকে রাষ্ট্রীয় সাফল্য হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো—এটি একটি ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক উদ্যোগ, যা রাষ্ট্রীয় অর্জন বলে প্রচার করা হচ্ছে।
TITP প্রোগ্রাম: রাষ্ট্রীয় নয়, বেসরকারি অংশগ্রহণভিত্তিক চুক্তি
জাপানে যে কর্মসূচিটি নিয়ে এত আলোচনা, তার নাম Technical Intern Training Program (TITP)। এই কর্মসূচির মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর তরুণদের জাপানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হয়, যাতে তারা দেশে ফিরে গিয়ে সেই দক্ষতা কাজে লাগাতে পারে।
এই কর্মসূচি চালু হয় ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর থেকে। শুরুতে বাংলাদেশ এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না, তবে ২০১৯ সালে বাংলাদেশও এই তালিকায় যুক্ত হয়। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এই প্রোগ্রামের অগ্রগতি কিছুটা থমকে ছিল, কিন্তু এখন তা আবার সচল হয়েছে।
ড. ইউনূসের গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড ও বাণিজ্যিক চুক্তি
গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড—ড. ইউনূসের মালিকানাধীন একটি রিক্রুটিং এজেন্সি, যেটি বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনপ্রাপ্ত। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই TITP প্রোগ্রামে জাপানে শ্রমিক পাঠানোর একটি বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
এই ধরনের চুক্তির জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের সম্পৃক্ততা বা প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির প্রয়োজন পড়ে না। দেশের অনেক রিক্রুটিং এজেন্সি এ ধরনের চুক্তি স্বাভাবিকভাবেই করে থাকে।
এক লক্ষ শ্রমিক পাঠানোর দাবি: বাস্তবতা না প্রচারণা?
এক লক্ষ শ্রমিক পাঠানো একটি দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার কথা হলেও সেটি নিশ্চিত নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের একটি অনুমান বা কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা। কিন্তু ড. ইউনূস এই সংখ্যাকে সামনে এনে নিজের বাণিজ্যিক উদ্যোগকে রাষ্ট্রীয় সাফল্য হিসেবে প্রচার করছেন, যা একটি বিভ্রান্তিকর কৌশল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এখানে সরকার কোনো কূটনৈতিক জয় পায়নি, বরং একজন বেসরকারি ব্যক্তি তার নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বিদেশি অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করেছেন।
রাষ্ট্রীয় অর্জন না ব্যক্তিগত স্বার্থ: প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে
বিশ্লেষকদের মতে, ড. ইউনূস বর্তমানে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে বিকল্প রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। TITP প্রোগ্রামের মতো একটি নিয়মিত কর্মসূচিকে নিজের অর্জন হিসেবে তুলে ধরা সেই larger narrative-এরই অংশ। এর মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায় করাই হতে পারে মূল উদ্দেশ্য।
জাপানে শ্রমিক পাঠানোর TITP প্রোগ্রাম একটি বহু দেশীয়, দীর্ঘদিনের চলমান বেসরকারি প্রকল্প। ড. ইউনূস কেবল একটি রিক্রুটিং লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এতে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু সেটিকে রাষ্ট্রীয় বা ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরা সম্পূর্ণরূপে একটি বিভ্রান্তিকর প্রচারণা।
এটি প্রমাণ করে—কারও ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক উদ্যোগকে রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে প্রচার করা কতটা ভয়ানক মিথ্যাচার হতে পারে।
