আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষেও জামায়াত ঘনিষ্ঠ আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ দাঁড়ানোয় ব্যাপক বিতর্ক। রাষ্ট্রপক্ষ, আসামিপক্ষ ও বিচারক—সবখানে জামায়াতের আধিপত্য নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় কি আজ সত্যিই একটি রঙ্গমঞ্চ তৈরি হয়েছে?
জামায়াত ঘনিষ্ঠ আইনজীবীদের দ্বারা রাষ্ট্রপক্ষ, আসামিপক্ষ এবং বিচারকের আসন—সবই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, এমনই চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক একটি আলোচিত মামলায়।
ঘটনাটি অবিশ্বাস্য হলেও সত্য:
আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান এক রাজনৈতিক মামলায়, আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী হয়েছেন যায়েদ বিন আমজাদ—যিনি জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনিরের চেম্বারের জুনিয়র।
যায়েদ বিন আমজাদের প্র্যাক্টিস অভিজ্ঞতা মাত্র ৩ বছর।
এত কম অভিজ্ঞ একজন আইনজীবী কীভাবে এমন স্পর্শকাতর মামলায় আসামিপক্ষের দায়িত্ব পেলেন—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
রাষ্ট্রপক্ষ, আসামিপক্ষ এবং বিচারক—তিন দিকেই জামায়াতের ছায়া
এই মামলায় যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত, তা হলো:
- রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামায়াত ঘনিষ্ঠ।
- আসামিপক্ষের আইনজীবীও জামায়াত ঘনিষ্ঠ।
- বিচারকের রাজনৈতিক অতীত নিয়েও রয়েছে জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়:
“এটি একটি ক্লাসিক ক্যাঙ্গারু কোর্ট মডেল—যেখানে বিচার একটি পূর্বনির্ধারিত রঙ্গমঞ্চ মাত্র।”
এই পরিস্থিতির অর্থ কী?
১. বিচারপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ধ্বংস হচ্ছে।
২. আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেও জামায়াত অনুপ্রবেশের আলামত স্পষ্ট।
৩. বিচার ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ কার্যত জামায়াতের হাতে চলে যাচ্ছে।
৪. রাজনৈতিক মামলাগুলো আসলে কারা পরিচালনা করছে, তা নিয়ে গভীর সংশয়।
আইনজীবীদের রাজনৈতিক পরিচয় এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
বাংলাদেশে রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রায়ই ন্যায়বিচারের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও বার্তা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে:
- একজন জামায়াত ঘনিষ্ঠ আইনজীবীকে আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষ থেকে আদালতে দাঁড় করানো মানে—রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ছড়ানো।
- রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়ই এক আদর্শের অনুসারী হলে, ন্যায়বিচার কেবল কল্পনা মাত্র।
প্রতিক্রিয়া
সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে এই বিচার প্রক্রিয়া।
একজন মন্তব্য করেন—
“রাষ্ট্রীয় মামলায় দুই পক্ষই যদি জামায়াতের হাতে থাকে, তাহলে আওয়ামী লীগ কোথায় দাঁড়াবে?”
অন্যজন লেখেন—
“এটা কী বিচারের প্রহসন না ক্যাবারে থিয়েটার?”
এই মামলায় জামায়াত সংশ্লিষ্ট আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদকে আসামিপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যাওয়া কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার অভ্যন্তরে গভীর রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ ও ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়।
যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে ‘বিচারালয়’ আর বিচার-এর জায়গা হবে না—বরং তা হয়ে উঠবে রাজনৈতিক নাটকের মঞ্চ।
